LightBlog

Friday, June 16, 2023

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি - শফিউল আলম প্রধান

জন্মলগ্ন থেকেই জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য ছাত্রলীগ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে অগণিত কৃষক শ্রমিক জনতার পাশাপাশি ছাত্রলীগ কর্মীরাও জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। হাজার হাজার সম্ভাবনাময় জীবন উৎসর্গিত হয়েছে স্বাধীনতার বেদিমূলে। নিজ দেশে পরবাসী হয়েছে এ দেশের মানুষ। সম্ভ্রম হারিয়েছে হাজার হাজার মা বোন। বিধবা অনাথ আর পুত্র হারার কান্নায় মথিত হয়েছে এদেশের আকাশ বাতাস। তারপর কালো রাত্রির বুক চিরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হল। স্বাধীনতা এলো, কিন্তু কার? শতাব্দী ব্যাপী যে শোষণ বঞ্চনা যে লাঞ্ছনা জাতীকে পঙ্গু করে রেখেছে তার অবসান হল।

সেদিন জাতি কি জানতো অস্ত্রের সাথে জমা দিতে হবে সব সোনালি স্বপ্নের ছবি। স্বাধীনতা এলো সব মুনাফাখোর, কালোবাজারি আর শাসক শোষকদের জন্য। যে বীর কৃষক দুবেলা দুমুঠো ভাতের স্বপ্নে রাইফেল কাঁধে নিয়েছে, যে শ্রমিক ন্যায্য মজুরীর জন্য বস্তিগুলোকে দুর্গে রূপান্তরিত করেছে, যে ছাত্র স্বাধীন মুক্ত স্বদেশের জন্য কলম ছেরে স্টেনগান ধরেছে তাঁরা কি পেয়েছে স্বাধীনতার স্বাদ? বীর কৃষকদের স্বপ্ন মহাজন, কালোবাজারি  আর মজুতদারের শোষণে নিষ্পেষিত হয়েছে। দুমুঠো ভাতের স্বপ্ন রূপান্তরিত হয়েছে দুঃসহ স্মৃতিতে। যে শ্রমিক লড়াই করেছে ন্যায্য মজুরীর জন্য স্বাধীনতা তার কাছে নির্মম পরিহাসে পরিণত হয়েছে। যে ছাত্র লড়াই করেছে নতুন জীবনের জন্য, স্বাধীনতা তার খাতা কলম কেরে নিয়েছে। স্বাধীনতা দেশকে বানিয়েছে ভিখারি, পরিয়েছে নতুন গোলামী জিঞ্জির।

একটা অসৎ ক্ষমতা-লিপ্সু নেতৃত্ব সম্ভাবনাময় গৌরবান্বিত জাতির প্রেরণাগুলোকে কিভাবে গলাটিপে হত্যা করতে পারে পৃথিবীর ইতিহাসে সম্ভবত এমন নজির বিরল। একটি আত্মপ্রত্যয়ী মহিমান্বিত জাতির স্বপ্নকে হয়তবা সাময়িকভাবে ধ্বংস করা যায় কিন্তু সম্ভাবনাকে ধ্বংস করা যায় না।

এ উপলব্ধির আলোকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতীয় কমিটি ও সকল জেলা শাখার সভাপতি ও সম্পাদকবৃন্দ ১৯৭৩ এর ১৮ই নভেম্বর ঢাকায় এক বর্ধিত সভায় মিলিত হন। ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বে সভার সিদ্ধান্ত নেয়। জনগণের জাতীয় স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণে গড়ে তুলতে হবে কৃষক শ্রমিক মধ্যবিত্ত সহ ব্যাপক জনগণের পার্টি। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় গণতান্ত্রিক মানসম্পন্ন নেতা ও কর্মীরা দীর্ঘ ৬ বছর কষ্টসাধ্য সংগ্রাম পরিচালনা করেন। ১৯৭৮ এর ৩০শে অক্টোবর ছাত্রলীগের বিশেষ সভায় সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক মুক্তি সংগ্রামে সফল করার লক্ষ্যে একটি প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পার্টি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপরোক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে ১৯৮০’র ১৮ই ফেব্রুয়ারি বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত জনসভায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি – জাগপার নাম ঘোষণা করা হয়। আনুষ্ঠিকভাবে ১৯৯৮০ সালের ০৬ই এপ্রিল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি – জাগপার পথচলা শুরু হয়।

শফিউল আলম প্রধান

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি – জাগপা 

শফিউল আলম প্রধান

শফিউল আলম প্রধান হলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ছিলেন।

শফিউল আলম প্রধান ১৯৪৯ সালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টকরাভাষা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভী গমির উদ্দিন প্রধান পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার ছিলেন। তিনি বোরহান উদ্দিন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশুনা করেছেন কিন্তু সম্পন্ন করতে পারেন নি।

শফিউল আলম প্রধানের স্ত্রীর নাম রেহানা প্রধান, যিনি পেশায় একজন অধ্যাপিকা এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি। তাদের দাম্পত্য জীবনের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে ব্যারিস্টার তাহমিয়া প্রধান ও ইঞ্জিনিয়ার আল রাশেদ প্রধান।

কর্মজীবন

শফিউল আলম প্রধান ১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ দিনাজপুরে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৭৩ থেকে ৭৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৪ সালের ৩০ মার্চ তিনি নিজ দলীয় ৬৪ জন দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীর তালিকা তৈরী করেন। ১৯৭৪ সালের ৪ এপ্রিল ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের সাত হত্যা মামলায় তাকে প্রধান আসামী করা হয়। যদিও তার সর্মথকেরা এটিকে তৎকালীন সরকারের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে। বিচারে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে ১৯৭৮ সালে তিনি মুক্তি পান। ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা গঠন করেন। ২০০৮ সাধারণ নির্বাচনে প্রধান চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে দিনাজপুর সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

মৃত্যু

শফিউল আলম প্রধান ২০১৭ সালের ২১শে মে ঢাকার আসাদ গেটের বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার, হৃদরোগ সহ নানা রোগে ভুগছিলেন এবং কয়েকবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।



জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) বাংলাদেশের একটি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। এর প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধান। ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল রমনার সবুজ চত্বরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি জাগপা গঠন করেন।  বর্তমান সভাপতি তাসমিয়া প্রধান।  দলটি বিশ দলীয় জোটের একটি শরীক দল। ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর নিবন্ধন বাতিল করে।



কেন্দ্রীয় কমিটি

সভাপতি
ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান

সহ-সভাপতি
রাশেদ প্রধান
মোঃ মাহাবুব আলম মজুমদার
ভিপি মুজিবুর রহমান
বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলী
মাহাবুব আলম ননী

সাধারণ সম্পাদক
অধ্যাপক ইকবাল হোসেন

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
বেলায়েত হোসেন মোড়ল
মোঃ জাকিউল আলম সাকী
মোঃ নুর ইসলাম মিয়া রঞ্জ
তানিয়া আক্তার রুপা
নুরুল আমিন খান

সাংগঠনিক সম্পাদক
আরিফ হোসেন ফিরোজ
মোঃ শাহজাহান আহমদ লিটন
মোঃ কামাল চৌধুরী
মোঃ নুরুন নবী
মোঃ নান্নু হাওলাদার
মোঃ হেলাল
আলহ্বাজ মোঃ নজরুল ইসলাম
মোঃ সিরাজুল ইসলাম মাস্টার
ইসমত তোহা সুমন

অর্থ বিষয়ক সম্পাদক
মোঃ মহিবুবুল হক রয়েল

প্রচার বিষয়ক সম্পাদক
মোঃ কামাল হোসেন

দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক
মোঃ তৌহিদুল ইসলাম রাতুল

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক
এস বি এ সিদ্দিকি

আইন বিষয়ক সম্পাদক
ব্যারিস্টার শাহেদুল আজম

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক

সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক
শেখ এনায়েত আহমেদ হালিম

কৃষি বিষয়ক সম্পাদক
মাহাবুব শরীফ (বাচ্চু)

যুব বিষয়ক সম্পাদক

মহিলা বিষয়ক সম্পাদক
মোছাঃ পারভীন সুলতানা

ছাত্র ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক
সাব্বির আহমেদ চৌধুরী রাজীব

ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক
মোঃ দেলদার হোসেন নানটু

শ্রম বিষয়ক সম্পাদক
আনিসুর রহমান তিতাস

ত্রান বিষয়ক সম্পাদক
জাহিদুল ইসলাম

প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক
মোঃ নাছির উদ্দিন

তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক
আশরাফুল ইসলাম হাসু

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
মোঃ ফারুক আজম

সহ-প্রচার সম্পাদক
মোঃ মঞ্জরুল কাদির তুহিন

সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক
মোঃ জয়নুল আবেদীন

সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক
সৈয়দ ইমরুল কায়েস রুপম

সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক
পারভীন বেগম

সহ-ছাত্র ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক
রাকিবুল ইসলাম রুবেল

সদস্য
এফ. আমিন লিটন শিকদার
মোঃ জলিল খাঁন
মোঃ আসাদুজ্জামান বাবুল
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহ্বাজ মোঃ ফাইজুর রহমান
মোঃ সাইদুজ্জামান কবির
মোঃ আমিনুর রহমান লিটন
মোঃ আবুতালেব বিশ্বাস
মোঃ সামছুল হক আকন্দ
মোঃ ইমারুল ইসলাম
মোঃ দৌলত জামান মন্ডল (মানিক)
পারভীন আক্তার পারুল
আফসানা ইয়াসমিন
হোসনে আরা খাতুন আভা
সৈয়দা মিনারা পারভীন
মোঃ জসিম উদ্দিন
মোঃ মনির হোসেন
ইঞ্জিনিয়ার আকলিমা আক্তার
ফাতেমা খোকন পান্না
মেহেতলাব পারভীন
ফরিদা ইয়াসমিন
মোছাঃ জোৎস্না আক্তার
মোঃ শামসুজ্জোহা সরকার মিজু
এ. কে. এম. সামিউল ইসলাম
মোঃ হেমায়েতুল ইসলাম
মোহাম্মদ আব্দুর রহমান
নিপা ইসলাম
মোছাঃ শাহিনুর বেগম
সুমাইয়া সাগরিকা উর্মি
সানজিদা বানু
পারুল আক্তার
নিপা বেগম
ফারজানা রহমান
ববি আক্তার
মোছাঃ সেলিমা আকতার
তাসলিমা বেগম
মোছাঃ ফাতেমা
মোছাঃ তছলিমা বেগম
মোছাঃ খাদিজা আক্তার
হোসনে আরা হাসি
আলেয়া বেগম
এরিনা
নাসিমা আক্তার
শওকতউজ্জামান
মোঃ পিয়ার হোসেন
শামীমা আক্তার লুনা
রূপালি আক্তার
শাহানুর আকতার ইভা
সৈয়দা নাফিসা রেজা

প্রেসিডিয়াম কমিটি

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি)

অধ্যাপক ইকবাল হোসেন (সাধারণ সম্পাদক)

আবু মোজাফফর মোঃ আনাছ

নিজাম উদ্দিন অমিত

আসাদুর রহমান খান

বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোঃ সফিকুল ইসলাম

মোঃ শামীম আক্তার পাইলট


জাগপা ছাত্রলীগ (আংশিক কমিটি)

সভাপতি
আব্দুর রহমান ফারুকী

সহ-সভাপতি
শাহাদাত হোসেন সেলিম
আশফাকুর রহমান মিঠুন
জীবন আহমেদ অভি
মোঃ আল-আমিন ইসলাম শুভ

সাধারণ সম্পাদক
শ্যামল চন্দ্র সরকার

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
মোঃ নূর-ইসলাম
জাহাঙ্গীর আলম
মোঃ আবু জাফর
বাবুল হক
এম.আর আকাশ বিশ্বাস

প্রচার সম্পাদক
আহমাদ শফি

দপ্তর সম্পাদক
সাহেদুল ইসলাম সাহেদ

সম্মানিত সদস্য
রাশেদ প্রধান


যুব জাগপা

সভাপতি
নজরুল ইসলাম বাবলু

সহ-সভাপতি
শাহরিয়ার বিপ্লব
ইমরুল কায়েস রূপম
কামরুজ্জামান কুয়েত
মাহিদুর রহমান বাবলা
শেখ গোলাপ মিয়া
আওলাদ হোসেন জিকু
সাহাবুদ্দিন সাবু
রোকনুজ্জামান রোকন

সাধারণ সম্পাদক
ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম

যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক
মোঃ আলী মোরশেদ
আনোয়ার হোসেন
জিয়াউর রহমান জুয়েল
মোঃ সোহেল রানা
মোঃ সালাহউদ্দিন
নুর মোহাম্মদ
রায়হান মৃধা
আশিকুর রহমান খান
সৈকত আহমেদ মিলন
এ টি এম তৌফিক হোসেন মুসা
মোনোয়ার ইসলাম প্রধান

সাংগঠনিক সম্পাদক
হোসনে আরা হাসু

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
মোঃ মোকছেদুর রহমান
মোঃ পাভেল
মোঃ শান্ত হোসেন
মোঃ রাসেল
মাসুম বিল্লাহ
মোঃ রফিকুল ইসলাম মোল্লা
রেজাউল করিম
আব্দুল্লাহ আল মামুন
মোহাম্মদ আলী ফকীর

প্রচার সম্পাদক
বিপুল সরকার

সহ-প্রচার সম্পাদক
আসাদুল হক নুর

দপ্তর সম্পাদক
আল আমিন টিপু

সহ-দপ্তর সম্পাদক
মোঃ তাজুল খান

অর্থ সম্পাদক
রিয়াজ খান

ক্রীড়া সম্পাদক
জনি নন্দী

সহ-ক্রীড়া সম্পাদক
মোঃ নুরুন্নবী

মহিলা সম্পাদিকা
দীপা খন্দকার

সহ-মহিলা সম্পাদিকা
মোছাঃ নাসিমা বেগম

সম্মানিত সদস্য
রাশেদ প্রধান

সদস্য
তাসলিমা আক্তার
শাহ আলম
সাইফুল ইসলাম সাজ্জাদ
এম, এ হান্নান
গোলাম রাব্বানী
শেখ তাইজুল ইসলাম
নুর আলম শুভ
মোছাঃ রুবি
স্বপ্না বেগম
শাহিদা বেগম



অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান

১৯৫৩ সালের ২রা মে, বগুড়া জেলা সদরের মাটিডালী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রেহানা। পিতা শহিরউদ্দিন আকন্দ পেশায় ছিলেন ডাক্তার আর মাতা মমিজান নেছা গৃহিনী। ১০ ভাই বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ রেহানা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দুরন্ত। শিক্ষা জীবনের শুরু বগুড়ার মাটিডালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবং পরবর্তীতে বগুড়া সরকারী মহিলা কলেজ। উচ্চতর ডিগ্রির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

শৈশব থেকেই দেশ ও রাজনীতি নিয়ে ভাবতেন রেহানা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ায় প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম ডাবলু, তার বড় ভাইয়ের পুত্র। শহীদ পরিবারের কন্যা রেহানা ১৯৭১-৭২ সালে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভানেত্রী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে ১৯৭৩-৭৪ সালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

১৯৭৪ সালের দুর্নীতি বিরোধী সংগ্রাম, ১৯৮০ সালে জাগপা প্রতিষ্ঠা, ১৯৮১ সালের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সংগ্রাম, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৩ সালের বেরুবাড়ির আন্দোলন, ১৯৯৫ সালে ইয়াসমিন হত্যা আন্দোলন সহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ন অবদান ও ত্যাগ রয়েছে।

রেহানা প্রধান দীর্ঘ ১৩ বছর জাগপার সহ-সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালের ২১ মে জাগপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, শফিউল আলম প্রধানের ইন্তেকালের পর তিনি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে রেহানা প্রধান জাগপার সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

রেহানা প্রধান দীর্ঘ সময় লালমাটিয়া মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে পবিত্র হজ্জ এবং ২০১৫ সালে ওমরাহ হজ্জ পালন করেন। ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর সকাল ৭ঃ৩০ মিনিটে রেহানা প্রধান নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।


ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি – জাগপা’র বর্তমান সভাপতি। জাগপা’র কাউন্সিলর ও ডেলিগেটবৃন্দের সর্বসম্মতিক্রমে তিনি ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর পূর্বে তিনি জাগপা’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান দীর্ঘদিন জাগপা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মজলুম জননেতা শফিউল আলম প্রধান এর রাজনৈতিক সচিব এর দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি জাগপা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি ঐতিহাসিক বেরুবারি অভিমুখে জাগপা’র লং মার্চের সম্মুখে জাতীয় পতাকা বহন করেন।

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এর জন্ম বগুড়ায় নানার বাড়িতে, বেড়ে উঠা ঢাকায়। তিনি মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এস এস সি এবং ১৯৯৮ সালে ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। ভূইঁয়া একাডেমী থেকে এ লেভেল করে ইংল্যান্ডে চলে যান ২০০০ সালে। তিনি ২০০৪ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (LLB) সম্পন্ন করেন। অতঃপর সিটি ইউনিভার্সিটি, লন্ডন থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ২০০৬ সালে সোসাইটি অফ লিংকন’স ইন থেকে বার এট ল’ (ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস) ডিগ্রী লাভ করেন। দেশে ফিরে ২০০৮ সালে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য হন। ২০১০ সালে থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অদ্যাবধি কর্মরত আছেন।


No comments:

Post a Comment

Adbox