LightBlog

Thursday, June 15, 2023

বাংলাদেশজাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি -গঠনতন্ত্র

 

বাংলাদেশজাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি



বিস্‌মিল্লাহির রাহমানির রাহিম

গঠনতন্ত্র

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

১ । নাম

এ দলের নাম হবে “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল”। ইংরেজিতে এই দলকে Bangladesh Nationalist Party-BNP এবং সংক্ষেপে এই দলকে “জাতীয়তাবাদী দল” এবং “বিএনপি” বলে অভিহিত করা হবে। এ দলের জাতীয় কার্যালয় তথা কেন্দ্রীয় সদর দফতর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হবে এবং দলের সদর দফতর বা কেন্দ্রীয় অফিসের সংগঠন চেয়ারম্যানের দায়িত্বাধীন থাকবে এবং অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের পদবী, দায়-দায়িত্ব ও ক্ষমতা চেয়ারম্যান নিজে নিরূপণ করবেন।


২। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষণাপত্রে এ দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। সংক্ষেপে এ দলের কয়েকটি মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিচে বর্ণিত হলো:

ক) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক ইস্পাতকঠিন গণঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও গণতন্ত্ৰ সুরক্ষিত ও সুসংহত করা।

খ) ঐক্যবদ্ধ এবং পুনরুজ্জীবিত জাতিকে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ, আধিপত্যবাদ ও বহিরাক্রমণ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা।

গ) উৎপাদনের রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং জনগণের গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক মানবমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন।

ঘ) জাতীয়তাবাদী ঐক্যের ভিত্তিতে গ্রাম-গঞ্জে জনগণকে সচেতন ও সুসংগঠিত করা এবং সার্বিক উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা ও প্রকল্প রচনা, বাস্তবায়নের ক্ষমতা এবং দক্ষতা জনগণের হাতে পৌঁছে দেওয়া।

ঙ) এমন এক সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে গণতন্ত্রের শিকড় সমাজের মৌলিক স্তরে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়।

চ) এমন একটি সুস্পষ্ট ও স্থিতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দেওয়া যার মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই তাঁদের মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি আনতে পারেন।

ছ) বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মাধ্যমে স্থিতিশীল গণতন্ত্র কায়েম করা এবং সুষম জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আনয়ন।

জ) গণতান্ত্রিক জীবনধারা ও গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থার রক্ষাকবচ হিসেবে গণনির্বাচিত জাতীয় সংসদের ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা।

ঝ) রাজনৈতিক গোপন সংগঠনের তৎপরতা এবং কোনো সশস্ত্র ক্যাডার, দল বা এজেন্সি গঠনে অস্বীকৃতি জানানো ও তার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা।

ঞ) জাতীয় জীবনে মানবমুখী সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন এবং সৃজনশীল উৎপাদনমুখী জীবনবোধ ফিরিয়ে আনা ।

ট) বাস্তবধর্মী কার্যকরী উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় জীবনে ন্যায়বিচার ভিত্তিক সুষম অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা, যাতে করে সকল বাংলাদেশি নাগরিক অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বাসস্থানের ন্যূনতম মানবিক চাহিদা পূরণের সুযোগ পায়।

ঠ) সার্বিক পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দান করা ও সক্রিয় গণচেষ্টার মাধ্যমে গ্রামবাংলার সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা ৷

ড) নারী সমাজ ও যুব সম্প্রদায়সহ সকল জনসম্পদের সুষ্ঠু ও বাস্তবভিত্তিক সদ্ব্যবহার করা।

ঢ) বাস্তবধর্মী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক স্থাপন এবং সুষ্ঠু শ্রমনীতির মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা।

ণ) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও বাংলাদেশের ক্রীড়া সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং প্রসার সাধন।

ত) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশি জনগণের ধর্ম ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ দান করে বাংলাদেশের জনগণের যুগ প্রাচীন মানবিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করা, বিশেষ করে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর জাতীয় জীবনে তাদের অধিকতর সুবিধা ও অংশগ্রহণের সুযোগের যথাযথ ব্যবস্থা করা।

থ) পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জোট নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব, প্রীতি ও সমতা রক্ষা করা । সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে, তৃতীয় বিশ্বের মিত্র রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে প্রীতি ও সখ্যতার সম্পর্ক সুসংহত এবং সুদৃঢ় করা ।


৩। দলের পতাকা

এই দলের পতাকার ঊর্ধ্বার্ধ লাল এবং নিম্নার্ধ সবুজ রংয়ের হবে। পতাকার মধ্যস্থলে কালো রংয়ের একটি শিল্পচক্র থাকবে । এই চক্রবৃত্তের বিন্দু থেকে লাল সবুজের সংযোগস্থলে উদ্ভূত হবে একছড়া সোনালি ধানের শীষ এবং প্রসারিত হবে উপরের দিকে। ধানের শীষের উপরে থাকবে একটি শ্বেতবর্ণের তারকা। সবুজ হচ্ছে দেশের প্রতীক; লাল হচ্ছে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ত্যাগের প্রতীক; শিল্পচক্র হচ্ছে উন্নতি ও অগ্রগতির প্রতীক; ধানের শীষ হচ্ছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক এবং শ্বেতবর্ণের তারকা হচ্ছে আমাদের জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।


৪ । শব্দার্থ

ক) ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা/থানা, পৌরসভা, মহানগর, জেলা- এই শব্দগুলো বাংলাদেশ সরকার/নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দেওয়া অর্থই বোঝাবে ।

খ) ‘গঠনতন্ত্র’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক না হলে দলের গঠনতন্ত্রকেই বোঝাবে ।

গ) যদি গঠনতন্ত্রে অন্যভাবে বোঝানো না হয়ে থাকে তবে ‘জেলা’ বলতে প্রশাসনিক জেলা বোঝাবে ।

ঘ) ‘চেয়ারম্যান' শব্দটি ক্ষেত্র বিশেষে চেয়ারপার্সনকেও বোঝাবে।

ঙ) ‘দল’ শব্দটি ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল' কে বোঝাবে।

চ) ‘সদস্য’ শব্দটি যদি ‘কমিটির’ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহৃত না হয়ে থাকে তা হলে দলের প্রাথমিক সদস্যকে বোঝাবে।


৫। সদস্য পদ

ক) সদস্য পদ লাভের যোগ্যতা

১) ১৮ বছর বা ততোধিক বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক এ দলের প্রাথমিক সদস্য হতে পারবে। ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরকে সংগঠনের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচির প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করতে হবে।

২) প্রাথমিক সদস্য পদের আবেদনপত্র এই গঠনতন্ত্রের তপসিল ১-এ ‘ক’ ফরমে করতে হবে। এই ফরম দলের অফিসে পাওয়া যাবে। সদস্য পদের আবেদনপত্র অন্য কোনো ফরমে গ্রহণযোগ্য হবে না, তবে কোনো সময় যদি এই ফরম দলের অফিসে না পাওয়া যায়, তাহলে অনুরূপ ফরম ছাপিয়ে নিয়ে সদস্য পদের আবেদন করা যেতে পারে ।

৩) বিবেচনার পর আবেদনপত্র গৃহীত হলে সদস্য পদের প্রমাণস্বরূপ পরিচয়পত্র (তফসিল-১) ‘খ’ ফরমে প্রত্যেক সদস্যকে দিতে হবে।

৪) এ দলের প্রাথমিক সদস্য চাঁদা ১০/= (দশ) টাকা মাত্র । সদস্য পদ লাভের পরবর্তী বছর থেকে দলের বাৎসরিক চাঁদা ১০/= (দশ) টাকা মাত্র পরিশোধ করে সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে। সদস্যদের চাঁদা রসিদ মারফত গৃহীভ হবে এবং রসিদ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা হবে।

৫) দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যদের মাসিক চাঁদার হার দলের চেয়ারপার্সন নির্ধারণ করবেন।

৬) দলের ইউনিয়ন ওয়ার্ড কমিটি থেকে জেলা কমিটির কর্মকর্তা ও নির্বাহী সদস্যদের মাসিক চাঁদার হার নিম্নরূপ হবে:

যে কোনো কর্মকর্তা/সদস্য স্বেচ্ছায় বেশি পরিমাণ চাঁদা প্রদান করতে পারবেন।

কোনো কর্মকর্তা/সদস্যের সামর্থ্যের অভাব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কমিটি সেসব কর্মকর্তা/সদস্যের আবেদনের ভিত্তিতে চাঁদা মওকুফ কিংবা চাঁদার পরিমাণ হ্রাস করতে পারবে।

৭) বিভিন্ন পর্যায়ে যেসকল নেতার দলের বিধিমালা অনুয়ায়ী মাসিক চাঁদা দেওয়ার কথা- তারা একাদিক্রমে ৬ (ছয়) মাস এবং দলের গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী যাদের বার্ষিক চাঁদা দেওয়ার কথা একাদিক্রমে ২ (দুই) বছর চাঁদা না দিলে তাদের সদস্যপদ স্থগিত হয়ে যাবে,। মাসিক চাঁদা দাতাগণ একাদিক্রমে ১ (এক) বছর চাঁদা না দিলে এবং বার্ষিক চাঁদা দাতাগণ একাদিক্রমে ৩ (তিন) বছর চাঁদা পরিশোধ না করলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে। অনিবার্য কারণে কেউ যথাসময়ে চাঁদা পরিশোধে অক্ষম হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যান/সভাপতি ও মহাসচিব/সাধারণ সম্পাদক বরাবর চাঁদা মওকুফের কিংবা বিলম্বে পরিশোধের আবেদন জানালে তার বিবেচনা করা যাবে। এ ব্যাপারে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটি প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করবে।

৮) প্রত্যেকটি উপজেলা/থানা অফিস তাদের স্ব-স্ব এলাকায় প্রত্যেক প্রাথমিক সদস্য পদের তালিকা সংরক্ষণ করবেন।

জাতীয় সদর দফতরে অর্থাৎ দলের ঢাকাস্থ কেন্দ্ৰীয় অফিসে দলের সর্বমোট সদস্য সংখ্যা, সদস্যদের নাম ও ঠিকানাসহ বিধিসম্মতভাবে সংরক্ষিত হবে।

খ) সদস্য পদ লাভের অযোগ্যতা

১) বাংলাদেশের আইনানুগ নাগরিক নন এমন কোনো ব্যক্তি জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হতে পারবেন না ।

২) বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরোধী; গোপন কিংবা সশস্ত্র রাজনীতিতে বিশ্বাসী ও সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সমাজবিরোধী ও গণবিরোধী কোনো ব্যক্তিকে এই সংগঠনের সদস্য পদ দেওয়া হবে না ।

গ) সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

দলের স্থায়ী কমিটি দলের কোনো সদস্যের অসদাচরণের কারণে কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে কিংবা দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে তার সদস্যপদ বাতিল কিংবা সাময়িকভাবে সদস্যপদ স্থগিত কিংবা তার বিরুদ্ধে অন্য যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সঙ্গত কারণে পূর্বে নেওয়া যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবে। কোনো কারণে স্থায়ী কমিটির সভা আহ্বান করা সম্ভব না হলে জরুরি প্রয়োজনে দলের চেয়ারম্যান নিজ বিবেচনায় শাস্তিযোগ্য মনে করলে যেকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ এবং পূর্বে নেওয়া যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে সকল ক্ষেত্রে যথাশীঘ্র সম্ভব জাতীয় স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। চেয়ারম্যান অথবা স্থায়ী কমিটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে প্রয়োজনবোধে অভিযুক্ত সদস্যকে ব্যক্তিগত শুনানীর সুযোগ দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে একটি নোটিশ ডাকযোগে কিংবা তার হাতে হাতে জারি করতে হবে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি শাস্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলের চেয়ারম্যানের বরাবরে আপিল করতে পারবেন এবং এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

ঘ) সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ

১) দলের যেকোনো সদস্য দলের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত চিঠির মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন।

২) দল কর্তৃক মনোনীত কোনো সংসদ সদস্য যদি সংসদীয় দলের নেতা/নেত্রীর সম্মতি ছাড়া নিজের নির্দিষ্ট আসন পরিবর্তন করেন বা অন্য দলের সঙ্গে জোট বাঁধেন বা ফ্লোরক্রস করেন বা সংসদে দলীয় অবস্থানের পরিপন্থী কোনো কাজ করেন তাহলে উপরোক্ত যেকোনো কার্যের কারণে সেই সংসদ সদস্য এই দল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হবেন।


৬। ক) সাংগঠনিক নীতিমালা ও কাঠামো

জাতীয়তাবাদী দল দেশের মৌলিক স্তর ইউনিয়ন ও পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সংগঠিত হয়ে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো নিম্নরূপ হবে:

১) ইউনিয়নের ওয়ার্ড কাউন্সিল ও ইউনিয়নের ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি

২) পৌরসভা/মহানগর, ওয়ার্ড কাউন্সিল ও পৌরসভা/মহানগর, ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি

৩) ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি

৪) উপজেলা/থানা কাউন্সিল ও উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটি

৫) পৌরসভা কাউন্সিল ও পৌরসভা নির্বাহী কমিটি

৬) মহানগর কাউন্সিল ও মহানগর নির্বাহী কমিটি

৭) জেলা কাউন্সিল ও জেলা নির্বাহী কমিটি

৮) জাতীয় কাউন্সিল

৯) জাতীয় স্থায়ী কমিটি

১০) জাতীয় নির্বাহী কমিটি

১১) পার্লামেন্টারি বোর্ড

১২) পার্লামেন্টারি পার্টি

১৩) প্রবাসে সংগঠন


খ) সাংগঠনিক কাঠামোর গঠন প্রণালী

ওয়ার্ড থেকে মহানগর পর্যন্ত সকল কমিটিতে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিল একজন সভাপতি, নির্ধারিত সংখ্যক সহ-সভাপতি, একজন কোষাধ্যক্ষ, একজন উপ-কোষাধ্যক্ষ এবং নির্ধারিত সংখ্যক সম্পাদক, সহ-সম্পাদক ও সদস্য নির্বাচিত করবেন। দলের সকল পর্যায়ে কমিটিতে নারীদের সংখ্যা অন্তত ১০% হবে এবং এই সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করতে হবে।

১) ইউনিয়ন ওয়ার্ড কাউন্সিল ও ইউনিয়ন ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি:

প্রতি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ন্যূনতম ১০০ জন প্রাথমিক সদস্য নিয়ে দলের কাউন্সিল গঠিত হবে। এ কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে অনূর্ধ্ব ৫১ জনের একটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে। নিম্নোক্ত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে ইউনিয়ন ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হবে:

ইউনিয়ন ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি

১. সভাপতি (১ জন)

২. সহ-সভাপতি (৩ জন)

৩. সাধারণ সম্পাদক (১ জন)

৪. যুগ্ম সম্পাদক (২ জন)

৫. কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

৬. সাংগঠনিক সম্পাদক (১ জন)

৭. দফতর সম্পাদক (১ জন)

৮. প্রচার সম্পাদক (১ জন)

৯. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১০. মহিলা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১১. কৃষি বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১২. যুব বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৩. ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৪. গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৫. শ্রম বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৬. স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৭. গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৮. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৯. ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২০. ক্ষুদ্র ঋণ ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২১. ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২২. সহ-কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

২৩. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (১ জন)

২৪. সহ-সম্পাদক মহিলা বিষয়ক (১ জন)

২৫. নির্বাহী সদস্য (২৪ জন)

সর্বমোট ৫১ জন

ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটি এ কমিটির অনুমোদন দেবে।


২) পৌরসভা/মহানগর ওয়ার্ড কাউন্সিল ও পৌরসভা/মহানগর ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি

প্রতিটি পৌরসভা/মহানগরভুক্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম ১৫০ জন প্রাথমিক সদস্য নিয়ে দলের পৌরসভা/মহানগর ওয়ার্ড কাউন্সিল গঠিত হবে। এ কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে ৭১ জনের অনূর্ধ্ব একটি পৌরসভা/মহানগর ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে। এ কমিটি দলের ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটির মর্যাদা লাভ করবে। নিম্নোক্ত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে পৌরসভা/মহানগর ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি গঠিত হবে।

ইউনিয়ন এবং মহানগর/পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি:

১. সভাপতি (১ জন)

২. সহ-সভাপতি (৫ জন)

৩. সাধারণ সম্পাদক (১ জন)

৪. যুগ্ম সম্পাদক (৩ জন)

৫. কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

৬. সাংগঠনিক সম্পাদক (১ জন)

৭. দফতর সম্পাদক (১ জন)

৮. প্রচার সম্পাদক (১ জন)

৯. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১০. মহিলা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১১. কৃষি বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১২. যুব বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৩. ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৪. শ্রম বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৫. স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৬. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৭. ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৮. ক্ষুদ্র ঋণ ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৯. ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২০. গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২১. স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২২. ধর্ম সম্পাদক (১ জন)

২৩. সহ-কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

২৪. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (১ জন)

২৫. সহ-দফতর সম্পাদক (১ জন)

২৬. সহ-প্রচার সম্পাদক (১ জন)

২৭. সহ-সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক (১ জন)

২৮. সহ-সম্পাদক মহিলা বিষয়ক (১ জন)

২৯. সহ-সম্পাদক যুব বিষয়ক (১ জন)

৩০. সহ-সম্পাদক স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক (১ জন)

৩১. সহ-সম্পাদক ছাত্র বিষয়ক (১ জন)

৩২. নির্বাহী সদস্য (৩৪ জন)

সর্বমোট ৭১ জন

পৌরসভা/মহানগর নির্বাহী কমিটি এ কমিটির অনুমোদন দেবে।


৩) ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি

ইউনিয়নভুক্ত প্রতিটি ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ সমন্বয়ে গঠিত হবে দলের ইউনিয়ন কাউন্সিল। এ কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে পৌরসভা ও মহানগর ওয়ার্ড কমিটির আদলে ৭১ জনের অনূর্ধ্ব একটি ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবেন। উপজেলা/থানা কমিটি ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেবে।


৪) উপজেলা/থানা কাউন্সিল ও উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটি

উপজেলা/থানাভুক্ত প্রতিটি ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ নিয়ে দলের উপজেলা/থানা কাউন্সিল গঠিত হবে। এ কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে থেকে নিম্নোক্ত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে ১০১ জনের অনূর্ধ্ব একটি উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে।

উপজেলা/মহানগর থানা/পৌর নির্বাহী কমিটি:

১. সভাপতি (১ জন)

২. সহ-সভাপতি (৯ জন)

৩. সাধারণ সম্পাদক (১ জন)

৪. যুগ্ম সম্পাদক (৩ জন)

৫. কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

৬. সাংগঠনিক সম্পাদক (২ জন)

৭. দফতর সম্পাদক (১ জন)

৮. প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক (১ জন)

৯. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১০. মহিলা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১১. কৃষি বিষয়ক সম্পাদক (১ জন) [পৌর ও মহানগর থানায় পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক]

১২. যুব বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৩. ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৪. শ্রম বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৫. স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৬. প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৭ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৮. প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৯. স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২০. ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২১. ক্ষুদ্র ঋণ ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২২. মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৩. গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৪. স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৫. ধর্ম সম্পাদক (১ জন)

২৬. ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৭. তাঁতী/মৎস্যজীবী/উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৮. সহ-কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

২৯. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (২ জন)

৩০. সহ-দফতর সম্পাদক (১ জন)

৩১. সহ-প্রচার সম্পাদক (১ জন)

৩২. সহ-সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক (১ জন)

৩৩. সহ-সম্পাদক ধর্ম বিষয়ক (১ জন)

৩৪. সহ-সম্পাদক মহিলা বিষয়ক (১ জন)

৩৫. সহ-সম্পাদক যুব বিষয়ক (১ জন)

৩৬. সহ-সম্পাদক স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক (১ জন)

৩৭. সহ-সম্পাদক ছাত্র বিষয়ক (১ জন)

৩৮. সহ-সম্পাদক শ্রম বিষয়ক (১ জন)

৩৯. সহ-সম্পাদক কৃষি বিষয়ক (১ জন) [পৌর ও মহানগর থানায় সহ-সম্পাদক পরিবেশ বিষয়ক]

৪০. নির্বাহী সদস্য (৫০ জন)

সর্বমোট ১০১ জন

জেলা কমিটি উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দিবে । মহানগর কমিটি মহানগর থানা কমিটি অনুমোদন দিবে।


৫) পৌরসভা কাউন্সিল ও পৌরসভা নির্বাহী কমিটি

প্রত্যেকটি পৌরসভাভুক্ত প্রতিটি ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দকে নিয়ে দলের পৌরসভা কাউন্সিল গঠিত হবে। এ কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে উপজেলা/পৌর থানা কমিটির আদলে ১০১ জনের অনূর্ধ্ব একটি পৌরসভা নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে। এ নির্বাহী কমিটি উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটির মর্যাদা লাভ করবে। জেলা কমিটি এই কমিটির অনুমোদন দেবে।


৬) মহানগর কাউন্সিল ও মহানগর নির্বাহী কমিটি

মহানগরভুক্ত প্রতিটি থানার নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দকে নিয়ে সেই মহানগরে দলের মহানগর কাউন্সিল গঠিত হবে। এই কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদে কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দের মধ্য থেকে নিম্নোক্ত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে অনূর্ধ্ব ১৫১ জনের একটি মহানগর নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে। দলের মহানগর নির্বাহী কমিটি দলের জেলা নির্বাহী কমিটির মর্যাদা

লাভ করবে।

মহানগর নির্বাহী কমিটি

১. সভাপতি (১ জন)

২. সহ-সভাপতি (১৫ জন)

৩. সাধারণ সম্পাদক (১ জন)

৪. যুগ্ম সম্পাদক (৫ জন)

৫. কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

৬. সাংগঠনিক সম্পাদক (৩ জন)

৭. দফতর সম্পাদক (১ জন)

৮. প্রচার সম্পাদক (১ জন)

৯. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১০. প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১১. আইন বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১২. মহিলা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৩. যুব বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৪. ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৫. শ্রম বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৬. স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৭. প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৮ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৯. প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২০. ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২১. মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২২. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৩. পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৪. শিশু বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৫. ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৬. ক্ষুদ্র ঋণ ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৭. ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৮. গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৯. স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

৩০. শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

৩১. তাঁতী/মৎস্যজীবী/উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক (২ জন)

৩২. সহ-কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

৩৩. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (৩ জন)

৩৪. সহ-দফতর সম্পাদক (২ জন)

৩৫. সহ-প্রচার সম্পাদক (১ জন)

৩৬. সহ-সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক (১ জন)

৩৭. সহ-সম্পাদক ধর্ম বিষয়ক (৩ জন)

৩৮. সহ-সম্পাদক আইন বিষয়ক (৩ জন)

৩৯. সহ-সম্পাদক মহিলা বিষয়ক (২ জন)

৪০. সহ-সম্পাদক যুব বিষয়ক (১ জন)

৪১. সহ-সম্পাদক স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক (১ জন)

৪২. সহ-সম্পাদক ছাত্র বিষয়ক (১ জন)

৪৩. সহ-সম্পাদক শ্রম বিষয়ক (১ জন)

৪৪. সহ-সম্পাদক পরিবেশ বিষয়ক (১ জন)

৪৫. সহ-সম্পাদক প্রশিক্ষণ বিষয়ক (১ জন)

৪৬. সহ-সম্পাদক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক (১ জন)

৪৭. সহ-সম্পাদক স্থানীয় সরকার বিষয়ক (১ জন)

৪৮. নির্বাহী সদস্য (৭৫ জন)

সর্বমোট ১৫১ জন

চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে দলের মহাসচিব মহানগর নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেবেন।


৭) জেলা কাউন্সিল ও জেলা নির্বাহী কমিটি

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জেলাভূক্ত প্রতিটি উপজেলা/থানার ও পৌরসভার নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে জেলা কাউন্সিল গঠিত হবে। এই কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদের জন্য কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নিম্নোক্ত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে ১৫১ জনের অনূর্ধ্ব একটি জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করবে।

জেলা নির্বাহী কমিটি

১. সভাপতি (১ জন)

২. সহ-সভাপতি (১৫ জন)

৩. সাধারণ সম্পাদক (১ জন)

৪. যুগ্ম সম্পাদক (৫ জন)

৫. কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

৬. সাংগঠনিক সম্পাদক (৩ জন)

৭. দফতর সম্পাদক (১ জন)

৮. প্রচার সম্পাদক (১ জন)

৯. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১০. প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১১. আইন বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১২. মহিলা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৩. যুব বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৪. ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৫. শ্রম বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৬. কৃষি বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৭. স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৮. প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

১৯. তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২০. প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২১.অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২২. ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৩. মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৪. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৫. পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৬. শিশু বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৭. ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৮. ক্ষুদ্র ঋণ ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

২৯. ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

৩০. গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

৩১. স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

৩২. শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক (১ জন)

৩৩. তাঁতী/মৎস্যজীবী/উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক (২ জন)

৩৪. সহ:কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

৩৫. সহ:সাংগঠনিক সম্পাদক (৩ জন)

৩৬. সহ:দফতর সম্পাদক (২ জন)

৩৭. সহ:প্রচার সম্পাদক (১ জন)

৩৮. সহ:সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক (১ জন)

৩৯. সহ:সম্পাদক, প্রকাশনা বিষয়ক (১ জন)

৪০. সহ:সম্পাদক, আইন বিষয়ক (৩ জন)

৪১. সহ:সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক (১ জন)

৪২. সহ:সম্পাদক, যুব বিষয়ক (১ জন)

৪৩. সহ:সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক (১ জন)

৪৪. সহ:সম্পাদক, ছাত্র বিষয়ক (১ জন)

৪৫. সহ:সম্পাদক, শ্রম বিষয়ক (১ জন)

৪৬. সহ:সম্পাদক, কৃষি বিষয়ক (১ জন)

৪৭. সহ:সম্পাদক, ধর্ম বিষয়ক (২ জন)

৪৮. সহ:সম্পাদক, পরিবেশ বিষয়ক (১ জন)

৪৯. সহ:সম্পাদক, প্রশিক্ষণ বিষয়ক (১ জন)

৫০. সহ:সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক (১ জন)

৫১. নির্বাহী সদস্য (৭৪ জন)

সর্বমোট ১৫১ জন

চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে দলের মহাসচিব জেলা কমিটির অনুমোদন দেবেন।

২০২০ সালের মধ্যে সকল কমিটিতে মহিলা সদস্য সংখ্যা শতকরা ৩৩ ভাগে উন্নীত করতে হবে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাহী কমিটিসমূহ স্ব-স্ব এলাকায় দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তদারক ও নিয়ন্ত্রণ করবে।

ওয়ার্ড কমিটি থেকে জেলা/মহানগর কমিটি পর্যন্ত সকল কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি নির্বাচিত হবে। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন সম্ভব না হলে যুক্তিসঙ্গত কারণে ঊর্ধ্বতন কমিটি পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির মেয়াদ বাড়াতে পারবে। এর মধ্যে নতুন কমিটি গঠিত না হলে পূর্ববর্তী কমিটি বাতিল বলে গণ্য হবে এবং ঊর্ধ্বতন কমিটি সংশ্লিষ্ট এলাকার ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে।

ওয়ার্ড থেকে মহানগর/জেলা কমিটি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কমিটি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে কাউকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করতে হলে অনুমোদন দানকারী কমিটির এবং কাউকে বহিষ্কার করতে হলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির কিংবা দলের চেয়ারম্যানের অনুমতি নিতে হবে।

কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো কমিটি কেউ বাতিল করতে পারবে না। তবে অনুমোদন দানকারী কমিটি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কমিটির অনুমোদনক্রমে অনুমোদিত কমিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পারবে। এমন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির মহাসচিবকে জানাতে হবে এবং এ ব্যাপারে দলের স্থায়ী কমিটির কিংবা চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।


৮) জাতীয় কাউন্সিল

ক) ‘জাতীয় কাউন্সিল’ নামে দলের একটি জাতীয় কাউন্সিল থাকবে যার গঠন পদ্ধতি নিম্নরূপ হবে:

১) প্রতি উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটির (মহানগর থানাসহ ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;

২) প্রতি পৌরসভা নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;

৩) প্রতি মহানগর নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;

৪) প্রতি জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;

৫) প্রতি জেলা ও মহানগর নির্বাহী কমিটি কর্তৃক মনোনীত প্রতি জেলা ও মহানগর হতে দুইজন মহিলা সদস্য;

৬) পার্লামেন্টারি পার্টির সদস্যবৃন্দ

৭) জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ;

৮) চেয়াম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ;

৯) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং

১০) চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত উপরে বর্ণিত ১ হতে ৯ এর মোট সদস্য সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ ।

খ) জাতীয় কাউন্সিলের দায়িত্ব ও ক্ষমতা

১) দলের গঠনতন্ত্রে বর্ণিত ও তার ভিত্তিতে জাতীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত ও প্রবর্তিত দলের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও কার্যকরী করা;

২) দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির   কর্মকর্তা ও সদস্যগণের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা;

৩) দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করা;

৪) দলের চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রেরিত যেকোনো বিষয় বিবেচনা করা;

৫) মহাসচিবের রিপোর্ট বিবেচনা করা;

৬) জাতীয় কাউন্সিলের ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্যদের প্রস্তাবিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা।


৯) জাতীয় স্থায়ী কমিটি

দলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন। তাঁদেরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে ১৯ জন। চেয়ারম্যান এ কমিটির প্রধান থাকবেন এবং তিনি স্থায়ী কমিটির সভা আহ্বান করবেন। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ তাঁদের পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য বলে গণ্য হবেন। জাতীয় স্থায়ী কমিটি নিম্নোক্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবে:

ক) দলের প্রধান নীতি নির্ধারক অঙ্গ হিসেবে এ কমিটি দলের নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়ন ও প্রবর্তন করবে।

খ) একমাত্র চেয়ারম্যানের অপসারণ ব্যতীত দলের অন্যান্য সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পুনর্বিচারের ক্ষমতা এ কমিটির থাকবে।

গ) এ কমিটি প্রয়োজনবোধে দলের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, বিধি, উপবিধি ও ধারার যথাযথ সংগতিপূর্ণ ব্যাখ্যা করবে এবং সে ব্যাখ্যা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে ।

ঘ) দলের সদস্যরা যাতে দলের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, ধারা-উপধারা, বিধি ও উপবিধির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন এবং মেনে চলেন এ কমিটি সে দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখবে।

ঙ) এ কমিটি দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রচারপত্র ও অন্যান্য প্রকাশনার অনুমোদন দান করবে এবং এ কমিটির অনুমোদন ব্যতীত দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রচারপত্র কিংবা প্রকাশনা প্রকাশ বা বিতরণ করা যাবে না ।

চ) এ কমিটি ওয়ার্ড পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত যেকোনো নির্বাহী কমিটির কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারবে কিংবা প্রয়োজনবোধে তা বাতিল করে দিয়ে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারবে। পুনর্নির্বাচনের জন্য স্থায়ী কমিটি একজন আহ্বায়ক বা বিশেষ ক্ষেত্রে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কমিটির পুনর্গঠন ও পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারবে।

ছ) এ কমিটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিসমূহের আওতাভুক্ত যেকোনো বিষয়ের ওপর রিপোর্ট পেশ করার জন্য উক্ত কমিটিসমূহকে নির্দেশ দিতে পারবে।

জ) এ কমিটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করবে।


১০) জাতীয় নির্বাহী কমিটি

জাতীয় নির্বাহী কমিটি অনূর্ধ্ব ৪৭০ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। তবে দলের চেয়ারম্যান কর্মকর্তা বা সদস্যদের সংখ্যা নিরূপণে বিশেষ ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে পারবেন কিন্তু মোট সদস্য সংখ্যা দশ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করা যাবে না। এছাড়াও প্রত্যেক জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও প্রত্যেক মহানগর নির্বাহী কমিটির সভাপতি তাঁদের পদাধিকার বলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বলে গণ্য হবেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির মোট সদস্যের শতকরা ১০ ভাগ মহিলা সদস্য হতে হবে এবং আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৩৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই কমিটিতে মোট সংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ শ্রমিক, মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক, উপজাতি ও সমাজের অন্যান্য স্তরের প্রতিনিধিদের মধ্যে থেকে নিতে হবে।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির নিম্নলিখিত কর্মকর্তাগণ দলের জাতীয় কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত হবেন। তবে এই কমিটির অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জাতীয় কাউন্সিল থেকে নিতে হবে। এই কমিটি ৩ বছরের জন্য নির্বাচিত হবে এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত পরবর্তী জাতীয় নির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।

জাতীয় নির্বাহী কমিটি

চেয়ারম্যান (১ জন)

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (১ জন)

ভাইস চেয়ারম্যান (৩৫ জন)

মহাসচিব (১ জন)

সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব (দফতরের দায়িত্বে) (১ জন)

যুগ্ম-মহাসচিব (৭ জন)

দফতর সম্পাদক (১ জন)

কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

সাংগঠনিক সম্পাদক প্ৰতি বিভাগে (১ জন)

সম্পাদক, ক্রীড়া বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, বিশেষ দায়িত্বে (২ জন)

প্রচার সম্পাদক (১ জন)

সম্পাদক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক (৭ জন)

সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, আইন বিষয়ক (২ জন)

সম্পাদক, শিক্ষা বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, কর্মসংস্থান বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, যুব বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, স্থানীয় সরকার বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, শিল্প বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, বাণিজ্য বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, অর্থনৈতিক বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, গবেষণা বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, তথ্য বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, ক্রীড়া বিষয়ক (১ জন)

সাংস্কৃতিক বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, প্রশিক্ষণ বিষয়ক (২ জন)

সম্পাদক, ছাত্র বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, শ্রমিক বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, কৃষি বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, গণশিক্ষা বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, ধর্ম বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, বন ও পরিবেশ বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, স্বাস্থ্য বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, পরিবার কল্যাণ বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, সমবায় বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, গ্রাম সরকার বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, প্রকাশনা বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, স্বনির্ভর বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, তাঁতী বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, শিশু বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, মানবাধিকার বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, উপজাতি বিষয়ক (১ জন)

সম্পাদক, মৎস্যজীবী বিষয়ক (১ জন)

উপ-কোষাধ্যক্ষ (১ জন)

সহ:সম্পাদক, সমবায় বিষয়ক (১ জন)

সহ:দফতর সম্পাদক (১ জন)

সহ:প্রচার সম্পাদক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, আইন বিষয়ক (৪ জন)

সহ:সম্পাদক, শিক্ষা বিষয়ক (২ জন)

সহ:সম্পাদক, অর্থনৈতিক বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক (২ জন)

সহ:সম্পাদক, কর্মসংস্থান বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, ক্রীড়া বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, সাংস্কৃতিক বিষয় (১ জন)

সহ:সম্পাদক, যুব বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ণ বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক (২ জন)

সহ:সম্পাদক, ধর্ম বিষয়ক (৪ জন)

সহ:সম্পাদক, ছাত্র বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, শ্রমিক বিষয়ক (২ জন)

সহ:সম্পাদক, কৃষি বিষয়ক (১ জন )

সহ:সম্পাদক, সমবায় বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, শিল্প বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, বাণিজ্য বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক (২ জন)

সহ:সম্পাদক, প্রকাশনা বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক (৩ জন)

সহ:সম্পাদক, গ্রাম সরকার বিষয়ক (২ জন)

সহ:সম্পাদক, স্থানীয় সরকার বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, প্রশিক্ষণ বিষয়ক (৩ জন)

সহ:সম্পাদক, গণশিক্ষা বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, বন ও পরিবেশ বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, স্বনির্ভর বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, তাঁতী বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, স্বাস্থ্য বিষয়ক (৩ জন)

সহ:সম্পাদক, নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী (১ জন)

সহ:সম্পাদক, পরিবার কল্যাণ বিষয়ক (২ জন)

সহ:সম্পাদক, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক (২ জন)

সহ:সম্পাদক, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক (২ জন)

সহ:সম্পাদক, মানবাধিকার বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক (১ জন)

সহ:সম্পাদক, উপজাতির ঋণ বিষয়ক (১ জন)


১১) জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্তব্য ও দায়িত্ব

ক) দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটির কার্যক্রমের তদারকী ও সমন্বয় সাধন করা।

খ) প্রয়োজনবোধে কমিটির কর্মকর্তা/সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা।

গ) দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তদুদ্দেশ্যে প্রস্তাব গ্রহণ ও নির্দেশ প্রদান করা।

ঘ) বৈধতা প্রশ্নে কমিটিসমূহের অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটানো।

ঙ) দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের কার্যকলাপের তদারক, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন করা।

চ) জাতীয় স্থায়ী কমিটির নির্দেশে অন্যান্য কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করা। প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে, তবে প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় কমিটির সভা চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে ডাকা যেতে পারে। যে বছর জাতীয় কাউন্সিল হবে সে বছর ব্যতীত প্রতি বছর অন্তত একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।


১২) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল

চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন বিশেষ পরামর্শ দানের জন্য একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল থাকবে। উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যগণ চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত হবেন এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ মর্যাদার অধিকারী হবেন। পদাধিকার বলে উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যগণ দলের জাতীয় কাউন্সিলের কাউন্সিলর বলে গণ্য হবেন ।


১৩) বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটি

দলের চেয়ারম্যান গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনবোধে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দের মধ্য থেকে কয়েকজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক কমিটি মনোনীত করতে পারবেন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে যে সমস্ত বিষয়ে এ ধরনের কমিটি গঠিত হতে পারে সেগুলো হচ্ছে : অর্থ ও পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্য, নারী ও শিশু, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি, আইন-শৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, যুব উন্নয়ন, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ, যোগাযোগ ও গণপরিবহন, এনার্জি ও খনিজ সম্পদ, মানবাধিকার, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মুক্তিযুদ্ধ, ক্ষুদ্রঋণ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সুশাসন ও জনপ্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, গণমাধ্যম, জাতীয় সংহতি ও এথনিক মাইনরিটি। এই সমস্ত কমিটিসমূহে দলের সদস্য নন অথচ বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী, যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তিদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।


১৪) পার্লামেন্টারি বোর্ড

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কিংবা অন্য যেকোনো নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দলের একটি পর্লামেন্টারি বোর্ড থাকবে। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটিই হবে দরে পার্লামেন্টারি বোর্ড। তবে যে জেলার প্রার্থী মনেনয়নের জন্য পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা আহূত হবে সেই জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত সভায় পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য বলে গণ্য করা হবে। তবে কোনে সদস্য যদি নির্বাচনে প্রার্থী হন তাহলে তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী বিবেচনাকালে বোর্ডের সভায় তিনি অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। দলের চেয়ারম্যান হবেন পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভাপতি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিংবা যেকোনো নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব পার্লামেন্টারি বোর্ড পালন করবে এবং এ ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

তবে পার্লামেন্টারি বোর্ড সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা/থানা অথবা জেলা কমিটি (যদি থাকে) কর্তৃক প্রণীত প্রার্থী প্যানেল হতে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনীত করবে।


১৫) পার্লামেন্টারি পার্টি

জাতীয় সংসদে দলের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হবে পার্লামেন্টারি পার্টি। দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে এ পার্টি তার নেতা, উপনেতা, চীফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপদের নির্বাচিত করবেন। পার্লামেন্টারি পার্টির সদস্যবৃন্দ পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হবেন।


১৬) প্রবাসে সংগঠন

প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিগণের মধ্যে যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নীতি, আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কাসূচিতে বিশ্বাস করেন তাঁরা যেসব দেশে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন, সেসব দেশের প্রচলিত আইনে সংগঠন প্রতিষ্ঠা/পরিচালনা করতে পারবেন।


১৭) চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী

চেয়ারম্যান তাঁর দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনবোধে বিশেষ সহকারী নিযুক্ত করতে পারবেন। তিনি তাঁর বিশেষ সহকারীদের সংখ্যা এবং দলে তাদের সাংগঠনিক মর্যাদা নির্ধারণ করবেন।


৭। চেয়ারম্যান

প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দলের একজন চেয়ারম্যান থাকবেন । ৩০ বছরের কম বয়স্ক কোনো ব্যক্তি দলের চেয়ারম্যান হতে পারবেন না।


ক) চেয়ারম্যান নির্বাচন

জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দের সরাসরি ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে ৩ বছরের জন্য দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। মেয়াদ শেষে চেয়ারম্যান পদে একই ব্যক্তি পুনরায় নির্বাচিত হতে পারবেন। কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত চেয়ারম্যান দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত চেয়ারম্যান স্বপদে বহাল থাকবেন ।

চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময় একই সাথে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ৩ (তিন) বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান স্বপদে বহাল থাকবেন ।


খ) চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব

১) দলের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে চেয়ারম্যান দলের সর্বময় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন এবং তদুদ্দেশ্যে জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিষয় কমিটিসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহের ওপর কর্তৃত্ব করবেন এবং তাদের কার্যাবলীর নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন।

২) উপরোক্ত কমিটিসমূহের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও চেয়ারম্যান প্রয়োজনবোধে নিতে পারবেন।

৩) জাতীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে উক্ত কমিটির কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্তব্য নিরূপণ করবেন।

৪) চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিরসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহ বাতিল করে দিতে এবং পরবর্তী কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে পুনর্গঠন করতে পারবেন ।

৫) চেয়ারম্যান জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাসমূহে সভাপতিত্ব করবেন, তবে এ ক্ষমতা প্রয়োজনবোধে তিনি অন্য সদস্যদের ওপর অর্পণ করতে পারবেন ।

৬) চেয়ারম্যান জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিসমূহের শূন্যপদ পূরণ করতে পারবেন।


গ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব

১) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে চেয়ারম্যানকে সহযোগিতা করবেন এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব পালন করবেন।

২) চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন ।

৩) যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।


ঘ) চেয়ারম্যানের অপসারণ

জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের দাবিকৃত জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য তিন-চতুর্থাংশের ভোট যদি চেয়ারম্যানের অপসারণের অনুকূলে হয় তাহলে চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা যাবে। তবে জাতীয় কাউন্সিলের উক্ত দাবিতে চেয়ারম্যানের অপসারণই সভার একমাত্র বিষয়বস্তু হিসেবে দেখাতে হবে এবং অপসারণের কারণ সুস্পষ্টভাবে লিখিত থাকতে হবে।


৮। সভা, নোটিশ, কোরাম

ক) জাতীয় কাউন্সিল

দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের লিখিত পরামর্শক্রমে জাতীয় কাউন্সিলের সভা আহ্বান করতে পারবেন। কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য কাউন্সিলের সভার কোরাম গঠন করবে। লিখিতভাবে সাধারণ ডাকে কিংবা পিয়ন মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে সম্ভব হলে বছরে অন্তত একবার জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুরূপভাবে সুস্পষ্ট ৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে। জাতীয় কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশের) দাবিতে অনুরূপভাবে সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের ‘দাবি সভা’ অনুষ্ঠান করা যাবে। তবে এ সভার নোটিশে সুস্পষ্টভাবে দাবির বিষয়বস্তু উল্লেখ থাকতে হবে।

এরূপ সভায় মোট কাউন্সিলরদের ২/৩ (দুই-তৃতীয়াংশের) ভোট দাবির পক্ষে না পাওয়া গেলে দাবিটি বাতিল হয়ে যাবে।


খ) জাতীয় স্থায়ী কমিটি

দলের চেয়ারম্যান যে কোনো সময় তাঁর,ইচ্ছানুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা আহ্বান করতে পারেন। তবে প্রতি ৩ মাসে অন্তত একবার স্থায়ী কমিটির সভা হতে হবে। বিদ্যমান (Existing) সদস্য সংখ্যার ৫০ ভাগ সদস্য নিয়ে এ সভার কোরাম গঠিত হবে।


গ) জাতীয় নির্বাহী কমিটি

দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের লিখিত পরামর্শক্রমে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করতে পারবেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য উক্ত কমিটির সভার কোরাম গঠন করবে। লিখিতভাবে সাধারণ ডাকে কিংবা পিয়ন-এর মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ৭ দিনের নোটিশে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করা যেতে পারে, তবে জরুরি সভার জন্য ৪৮ ঘণ্টার নোটিশই যথেষ্ট হবে। সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্যের দাবিতে এবং সুস্পষ্ট ৭ দিনের উপরোক্তভাবে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা দাবি করা যেতে পারে এবং কমিটির মহাসচিব যদি সেই সভা আহ্বান না করেন, তবে কমিটির চেয়ারম্যান উক্ত সভা আহ্বান করবেন।


ঘ) ওয়ার্ড থেকে জেলা নির্বাহী কমিটি

দলের ওয়ার্ড কমিটি থেকে জেলা কমিটি পর্যন্ত সমস্ত পর্যায়ের নির্বাহী কমিটির সভা উক্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমিটির সভাপতির সাথে আলোচনা করে সাত দিনের নোটিশে আহ্বান করতে পারবেন। ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বল্প সময়ের নোটিশে জরুরি সভা আহ্বান করা যেতে পারে। আহ্বায়ক কমিটির ক্ষেত্রে আহ্বায়ক সভা আহ্বান করতে পারবেন। সকল পর্যায়ের নির্বাহী কমিটি ও আহ্বায়ক কমিটির সভার কোরাম সংশ্লিষ্ট কমিটির মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার মহানগর / জেলা / উপজেলা / থানা / পৌরসভা / ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি সভা অনুষ্ঠান করতে হবে। প্রতিটি সভার উপস্থিতির স্বাক্ষরসহ কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্তের অনুলিপি ঊর্ধ্বতন কমিটির নিকট অবিলম্বে প্রেরণ করতে হবে।


ঙ) মহানগর/জেলা/উপজেলা/থানা/পৌরসভা/ইউনিয়ন এবং পৌর ওয়ার্ড উপদেষ্টা কমিটি

মহানগর ও জেলা নির্বাহী কমিটিতে অনূর্ধ্ব ১১ জন, উপজেলা/থানা/পৌরসভা নির্বাহী কমিটিতে অনূর্ধ্ব ৯ জন ও ইউনিয়ন এবং পৌর ওয়ার্ড কমিটিতে অনূর্ধ্ব ৭ জন সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা থাকবে। দলের প্রাক্তন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দলের কার্যক্রমে যুক্ত সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হবার যোগ্য হবেন। দলের সংশ্লিষ্ট কমিটি কর্তৃক উপদেষ্টা কমিটি মনোনীত হবেন। তারা সংশ্লিষ্ট কমিটিকে পরামর্শ দেবেন এবং দলীয় সভা, অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন।


৯। তহবিল

দলের কোষাধ্যক্ষ সংগঠনের তহবিল সংগ্রহ ও হিসাব রক্ষাবেক্ষণ করবেন। কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে সংগঠনের হিসাব খোলা হবে এবং চেয়ারম্যান/সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ ও মহাসচিব/সাধারণ সম্পাদক এই তিনজনের যেকোনো দু'জনের স্বাক্ষরে তহবিল পরিচালনা করা যাবে, তবে যুক্ত স্বাক্ষরে কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর থাকতেই হবে। কোনো অনিবার্য কারণে কোষাধ্যক্ষ দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে কিংবা তার অনুপস্থিতে উপ-কোষাধ্যক্ষ সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন। দলের হিসাব প্রতি বছর অডিট করাতে হবে এবং অর্থবছর সমাপ্ত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। সদস্য ফি, চাঁদা, দান, অনুদান, মনোনয়ন ফরম বিক্রির ও মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় প্রাপ্ত টাকা এবং অন্যান্য আইনানুগ পন্থায় সংগ্রহের মাধ্যমে দলের তহবিল সৃষ্টি করা হবে।


১০। বিধি ও উপবিধি

যে ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নাই, জাতীয় স্থায়ী কমিটি সে ক্ষেত্রে বিধি ও উপবিধি প্রণয়ন করতে পারবে।


১১। গঠনতন্ত্র সংশোধন

গঠনতন্ত্র সংশোধনের নিয়মাবলী নিম্নরূপ হবে:

জাতীয় কাউন্সিলের যেকোনো সদস্য লিখিতভাবে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব করতে পারবেন। উক্ত প্রস্তাব দলের মহাসচিবের নিকট প্রেরণ করতে হবে, যাতে করে মহাসচিব প্রস্তাবটি জাতীয় কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় পেশ করতে পারেন, তবে-

ক) প্রস্তাবিত সংশোধনী যে সভায় বিবেচিত হবে সে সভায় উপস্থিত সকল সদস্যের সামনে উপস্থাপন করতে হবে এবং সম্ভব হলে তাদের মধ্যে সংশোধনী প্রস্তাবের অনুলিপি বিতরণ করতে হবে।

এই সংশোধনী গৃহীত হতে হলে মোট কাউন্সিলরদের তিন ভাগের দুই ভাগকে প্রস্তাবের অনুকূলে ভোট দিতে হবে।

খ) জরুরি কারণে যদি কোনো সংশোধনী প্রয়োজন হয়ে পড়ে তাহলে দলের চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্রে সে সংশোধন করতে পারবেন, তবে জাতীয় কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় ‘ক’ তে বর্ণিত সংখ্যাগরিষ্ঠতায় উক্ত সংশোধনী গৃহীত হতে হবে।


১২। অঙ্গ সংগঠন

দলের এক বা একাধিক অঙ্গ সংগঠন থাকতে পারে। এই সকল অঙ্গ সংগঠনের নিজস্ব ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, পতাকা ও কার্যালয় থাকবে এবং এই সকল অঙ্গ সংগঠন মূল দলের শৃঙ্খলার আওতাধীন থাকবে। দলের চেয়ারম্যান শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য কিংবা সংগঠন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য কিংবা অসদাচরণের জন্য যেকোনো সময় অঙ্গ সংগঠনের কর্মকর্তা বা সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করতে কিংবা সাময়িকভাবে সংগঠনের সদস্য পদ স্থগিত করতে কিংবা তিরস্কার করতে এবং নির্দেশ বা পরামর্শ দিতে পারবেন।

অঙ্গ সংগঠন হিসেবে দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সংগঠন জাতীয়তাবাদী দলের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হবে না। অনুমোদনের তারিখ হতে অঙ্গ সংগঠনের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে। দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি প্রত্যেক অঙ্গ সংগঠন সম্পর্কিত একজন সম্পাদক থাকবে। যাদের সমন্বয়ে অঙ্গ সংগঠন গঠিত তাদের কল্যাণ সাধন এবং তার পাশাপাশি দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করাই হবে অঙ্গ সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য এবং এ উদ্দেশ্যে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দলের প্রভাব বিস্তার কিংবা দলের নীতির প্রসারের উদ্দেশ্যে এ সংগঠন তাদের নিজস্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করবে। তবে অঙ্গ সংগঠনসমূহের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র এবং পতাকা চেয়ারম্যান কর্তৃক পূর্বেই অনুমোদিত হতে হবে এবং যদি কোনো অঙ্গ সংগঠন তাদের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র বা পতাকার কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করতে চায় তাহলে চেয়ারম্যানের পূর্বানুমোদন ছাড়া তার কোনোটাই কার্যকর করা যাবে না। দল অঙ্গ সংগঠনের এ সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের সক্রিয়ভাবে সাহায্য করবে। এ পর্যন্ত যে সমস্ত সংগঠন দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদন পেয়ে অঙ্গ সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তারা হচ্ছে-

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল


১৩। সহযোগী সংগঠন

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তিগণের মধ্যে যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নীতি, আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচিতে বিশ্বাস করেন তারা স্ব-স্ব শ্রেণি-পেশার স্বার্থ রক্ষার জন্য সংগঠিত হতে পারবেন এবং দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে এইসব সংগঠন দলের সহযোগী সংগঠন হিসেবে গণ্য হবে । তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল স্ব-স্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হবে ।


১৪। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গবেষণা কেন্দ্র ও মিডিয়া উইং

এ দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের অধীনে দলের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দানের জন্য একটি প্রশিক্ষণ দলের সামগ্রিক সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য একটি গবেষণা কেন্দ্র এবং ইলেকট্রনিক ও সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দলের প্রচার কার্যক্রম জোরদার ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে একটি মিডিয়া উইং প্রতিষ্ঠা করা হবে।

দলের চেয়ারম্যান স্বয়ং কিংবা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি এসব বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকী ও নিয়ন্ত্রণ করবেন।


১৫। বিশেষ বিধান : এক নেতা এক পদ

ক) কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে দলের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড কমিটিতে সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হতে পারবেন না।

খ) দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি কিংবা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের কোনো সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোনো কর্মকর্তা এবং দলের অঙ্গদল কিংবা সহযোগী সংগঠনের কোনো সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক দলের অন্য কোনে পর্যায়ের কমিটিতে কর্মকর্তা নির্বাচিত হতে পারবেন না। তবে অনিবার্য কারণে দলের চেয়ারম্যান সাময়িকভাবে ব্যতিক্রম অনুমোদন করতে পারবেন।



স্বাক্ষর

(বেগম খালেদা জিয়া)

৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনের সভাপতি



চেয়ারপার্সন, বিএনপি

তারিখঃ ১৯ মার্চ, ২০১৬


Bismillahir Rahmanir Rahim

Constitution

Bangladesh Nationalist Party

1.The name of party

The name of this party will be 'Bangladesh Jatiyotabadi Dal'. In English, this organization will be called 'Bangladesh Nationalist Party' (BNP) and in short this party will be called 'Nationalist Party' and 'BNP'. The national office and central headquarters of this party is located in Dhaka, the capital of Bangladesh. and the organization of the headquarters or central office of the party shall be under the responsibility of the chairman and the titles, responsibilities and powers of the various officers of the office shall be determined by the chairman himself.

2.Objectives and Goals

The aim and objectives of the Bangladesh Jatiyotabadi Dal- BNP are stated in it's proclamation elaborately. In a brief, the aim and objectives of this party are stated below:

(a) To fortify and strengthen independence, sovereignty, security, state integration and democracy of Bangladesh through strong mass unity based on Bangladeshi nationalism.

(b) To protect Bangladesh from colonialism, expansionism, new-colonialism, authoritarianism and attack of external forces through economic solvency of the united and revived nation.

(c) To acquire pro-people economic development and national progress based on social justice through politics of production, free market economy and people’s democracy.

(d) To make the people conscious and organized in village and city based on nationalist unity and take complete development projects and reach the ability and authority of implementation of the projects to the people.

(e) To create such a healthy environment where democracy will reach the mind of the common people.

(f) To ensure such a clear and stable social and political system through which the people themselves can bring their humanitarian, social and economic development.

(g) To establish stable democracy through parliamentary democratic government elected by direct vote of the people based on multi-party politics and bring equitable national progress and development.

(h) To set up Jatiya Sangsad as the epitome of democratic life and democratic values and preserve the fundamental rights of the people.

(i) To create public opinion against activities of under ground political organizations and formation of any armed cadres, parties or agencies.

(j) To revive the pro-people social values in the national life and bring productive and creative spirit of life back.

(k) To establish equitable economy based on justice in national life through realistic, effective development process so that all the Bangladeshi citizens get the chance of fulfilling their minimum demands of food, cloth, habitation and education.

(l) To give priority on the programmers of complete village development and ensure happiness-peace and progress of rural areas of the country through active mass efforts.

(m) To make proper and realistic utilization of all manpower including women and youth.

(n) To take realistic economic plan and set up well balanced labour management and ensure maximum production in industrial sector through well labour policy.

(o) To preserve, develop and improve Bangla language and literature and culture and sports of Bangladesh.

(p) To preserve the age old human values of the Bangladeshi people through the teaching of Islam-religion of the majority of Bangladeshi people and other religions, expansion of education for the backward people and giving them more facilities and chance to take part in greater national life.

(q) To protect and establish international friendship, amity and equality in foreign policy based non-alignment. To fortify and strengthen relationship and friendship with neighboring counties, friendly countries of the third world and friendly Muslim countries based on sovereignty and equality.

3.Party Flag

The upper half of the team's flag will be red and the lower half will be green. In the center of the flag there will be a black industrial circle. From the point of this circle at the junction of red and green, a row of golden rice grains will extend upwards. Above the rice grain will be a white star. Green is the symbol of the country; Red is the symbol of freedom war and sacrifice, industrial cycle is the symbol of growth and progress, grain of rice is the symbol of determination to achieve self-sufficiency in food and the white star is the symbol of our national hopes and aspirations.

4. Word Meanings:

(a) ‘Ward’, ‘Union’, ‘Upazila/Thana’, ‘Pouroshova’, ‘Mahanagar’---the meanings of these words will be as given by the Bangladesh government or election commission.

(b) ‘Constitution’- will mean the constitution of the party if not irrelevant.

(c) ‘Zilla’ will mean administrative district unless indicated otherwise in the party constitution.

(d) The word ‘Chairman’ sometimes will also mean ‘Chairperson’.

(e) The word “Dal’ will mean ‘Bangladesh Jatiyotabadi Dal’.

‘Member’--- will mean primary member of the party if it is not used in the case of ‘committee’.

5.Membership:

(a) Qualification for membership

(1)Any Bangladeshi citizen of the age of 18 years or above can be primary member of this party. The aspirants have to declare adherence to the party’s proclamation, constitution and programmes.

(2) The application at schedule 1, form ‘Ka’ of the constitution will be filled up for primary membership. This form will be available at the party office. No other form will be accepted for membership but when not available, printing of same form will be allowed for application of membership,

(3) If the form is accepted for consideration, identification (Schedule 1, Form ‘kha’) will have to be collected as evidence.

(4) Subscription fee is Tk 10 only for primary membership. Annual subscription fee after getting membership is Tk 10 only. The subscription from the members will be taken by receipt and the receipt will be provided from the party’s central office.

5) Members of the National Standing Committee and the Advisory Council of Chairperson of the Party and the monthly subscription rates of the officers and members of the National Executive Committee shall be determined by the Chairperson of the Party.

6) The rate of monthly subscription of officers and executive members of the district committee from Union Ward Committee of the party shall be as follows:


Any officer/member can voluntarily pay higher amount.

Considering the lack of capacity of an officer/member, the concerned committee can waive or reduce the amount of subscription based on the application of that officer/member.

7) Leaders at various levels who are supposed to pay monthly subscriptions according to the rules of the party - 6 (six) months respectively and those who are supposed to pay annual subscriptions according to the constitution of the party for 2 (two) years respectively, their membership will be suspended. Membership of Monthly Subscribers shall be canceled if they fail to pay their subscription for 1 (one) year consecutively and Annual Subscribers fail to pay their subscription for 3 (three) years consecutively. If due to unavoidable reasons someone is unable to pay the subscription on time, it can be considered if an application is made to the concerned committee chairman/president and general secretary/general secretary for subscription waiver or late payment. In this regard, the National Standing Committee will formulate the necessary rules according to the constitution of the party.

8) Every Upazila/Thana Office shall maintain the list of every primary member post in their respective areas.

The total number of members of the party, along with the names and addresses of the members will be legally preserved in the national headquarters i.e. the central office of the party in Dhaka.

(b) Disqualification for Membership

(1) Any person who does not have legal Bangladeshi citizenship cannot be member of Jatiyotabadi Dal.

(2) Those who are against the independence, sovereignty and integrity of Bangladesh, believe in underground politics, involved in any anti-social and anti-people activities will not get the party’s membership.

(c) Disciplinary action against member:

The standing committee of the party can cancel or temporarily suspend membership or take any punitive measures against anyone on charge of misconduct or breaching disciplines or involvement of anti-party activities. It can withdraw penalty taken earlier. The party chairman on emergency can take any punitive measures against any member of the party and also withdraw action taken earlier in case meeting of the standing committee can not be called.

But all cases will be approved at the meeting of the standing committee as soon as possible. The chairman or the standing committee can seek explanation from the accused if necessary through personal hearing before taking punitive measures. In that case, a notice through post or by hand will have to be issued. The aggrieved person may appeal to Chairman against the penalty but the decision of the Chairman will be considered as final.

(d) Resignation from Membership:

(1) Any member of the party may resign through a letter addressed to the chairman.

(2) Any member of parliament (MP) nominated by the party will be considered to have resigned if he or she in the House will change his or her seat without prior permission of leader of the parliamentary party or will make alliance with another party or does any act which goes against the position of party in parliament.


6. a) Organizational principles and structure

Nationalist Party will be organized from the primary level of the country at the Union and Pouroshova/City corporation ward level and expand to the national level. The organizational structure of the team will be as follows:

1) Union Ward Council and Union Ward Executive Committee

2) Pouroshova/Metropolitan, Ward Council and Pouroshova/Metropolitan, Ward Executive Committee

3) Union Council and Union Executive Committee

4) Upazila/Thana Council and Upazila/Thana Executive Committee

5) Pouroshova Council and Pouroshova Executive Committee

6) Metropolitan Council and Metropolitan Executive Committee

7) Zilla Council and Zilla Executive Committee

8) National Council

9) National Standing Committee

10) National Executive Committee

11) Parliamentary Board

12) Parliamentary Party

13) Organizations abroad

b) Structure of organizational structure

In all committees from Ward to Metropolitan, the respective Councils shall elect a President, a prescribed number of Vice-Presidents, a Treasurer, a Deputy Treasurer and a prescribed number of Secretary, Joint Secretary and members. The number of women in committees at all levels of the party shall be at least 10% and this number shall be increased gradually.

1) Union Ward Council and Union Ward Executive Committee:

Party councils will be formed with minimum 100 primary members in each union ward. The council will elect a union ward executive committee of less than 51 members from among the members of the council for a period of two years. The Union Ward Committee shall consist of the following officers and members:

Union Ward Executive Committee

1. President (1 person)

2. Vice President (3 persons)

3. General Secretary (1 person)

4. Joint Secretary (2 persons)

5. Treasurer (1 Person)

6. Organizing Secretary (1 person)

7. Deputy Secretary (1 person)

8. Publicity Affairs Secretary (1 person)

9. Liberation War Affairs Secretary (1 person)

10. Women Affairs Secretary (1 person)

11. Agriculture Affairs Secretary (1 person)

12. Youth Affairs Secretary (1 person)

13. Student Affairs Secretary (1 person)

14. Mass Education Affairs Secretary (1 person)

15. Labor Affairs Secretary (1 person)

16. Volunteer Affairs Secretary (1 person)

17. Village Government Affairs Secretary (1 person)

18. Health and Family Welfare Affairs Secretary (1 person)

19. Relief and Rehabilitation Affairs Secretary (1 person)

20. Secretary, Microcredit and Cooperative Affairs (1 person)

21. Sports and Cultural Affairs Secretary (1 person)

22. Assistant Treasurer (1 person)

23. Assistant Organizing Secretary (1 person)

24. Assistant Secretary, Women's Affairs (1 person)

25. Executive Members (24 people)

A total number of 51

The executive committee of the union will approve this committee.


2) Pouroshova/Metropolitan Ward Council and Pouroshova/Metropolitan Ward Executive Committee

A Pouroshova/metropolitan ward council of the party shall be constituted with a minimum of 150 primary members in each ward belonging to each municipality/metropolis. The Council shall elect a Pouroshova/Metropolitan Ward Executive Committee of not less than 71 members from among the members of the Council for a period of two years. This committee will get the status of union executive committee of the party. The Pouroshova/Metropolitan Ward Executive Committee will be constituted consisting of the following officers and members.

Pouroshova/Metropolitan Ward Council and Pouroshova/Metropolitan Ward Executive Committee

1. President (1 person)

2. Vice President (5 persons)

3. General Secretary (1 person)

4. Joint Secretary (3 persons)

5. Treasurer (1 Person)

6. Organizing Secretary (1 person)

7. Deputy Secretary (1 person)

8. Publicity Affairs Secretary (1 person)

9. Liberation War Affairs Secretary (1 person)

10. Women Affairs Secretary (1 person)

11. Agriculture Affairs Secretary (1 person)

12. Youth Affairs Secretary (1 person)

13. Student Affairs Secretary (1 person)

14. Labor Affairs Secretary (1 person)

15. Volunteer Affairs Secretary (1 person)

16. Health and Family Welfare Affairs Secretary (1 person)

17. Relief and Rehabilitation Affairs Secretary (1 person)

18. Microcredit and Cooperative Affairs Secretary (1 person)

19. Sports and Cultural Affairs Secretary (1 person)

20. Mass Education Affairs Secretary (1 person)

21. Local Government Affairs Secretary (1 person)

22. Religion Affairs Secretary (1 person)

23. Assistant Treasurer (1 person)

24. Assistant Organizing Secretary (1 person)

25. Assistant Deputy Secretary (1 person)

26. Assistant Publicity Secretary (1 person)

27. Assistant Secretary, Liberation War Affairs (1 person)

28. Assistant Secretary, Women's Affairs (1 person)

29. Assistant Secretary, Youth Affairs (1 person)

30. Assistant Secretary, Volunteer Affairs (1 person)

31. Assistant Secretary, Student Affairs (1 person)

32. Executive Members (34)

A total number of 71 people

Pouroshova/Metropolitan Executive Committee will approve this committee.


3) Union Council and Union Executive Committee

The union council of the party will be composed of the members of the executive committee of each ward belonging to the union. The council will elect a union executive committee of less than 71 people on the pattern of municipal and metropolitan ward committees from among the members of the council for a period of two years. The upazila/ police station committee will approve the union executive committee.

4) Upazila/Thana Council and Upazila/Thana Executive Committee

The upazila/ police station council of the party will be formed with the members of the executive committee of each union under the upazila/ police station. The council will elect an upazila/ police station executive committee of not less than 101 members from among the members of the council for a period of two years.

Upazila/Metropolitan Police Station/Municipal Executive Committee:

1. President (1 person)

2. Vice President (9 people)

3. General Secretary (1 person)

4. Joint Secretary (3 persons)

5. Treasurer (1 Person)

6. Organizing Secretary (2 persons)

7. Deputy Secretary (1 person)

8. Publicity and Publication Affairs Secretary(1 person)

9. Liberation War Affairs Secretary (1 person)

10. Women Affairs Secretary (1 person)

11. Agricultural Affairs Secretary (1 person) [Environmental Affairs Secretary in Municipal and Metropolitan Police Stations]

12. Youth Affairs Secretary (1 person)

13. Student Affairs Secretary (1 person)

14. Labor Affairs Secretary (1 person)

15. Volunteer Affairs Secretary (1 person)

16. Training Affairs Secretary(1 person)

17 Information and Research Affairs Secretary (1 person)

18. Expatriate Welfare Affairs Secretary (1 person)

19. Health and Family Planning Affairs Secretary(1 person)

20. Relief and Rehabilitation Affairs Secretary (1 person)

21. Microcredit and Cooperative Affairs Secretary(1 person)

22. Human Rights Affairs Secretary(1 person)

23. Public Education Affairs Secretary (1 person)

24. Local Government Affairs Secretary (1 person)

25. Religion Affairs Secretary(1 person)

26. Sports and Cultural Affairs Secretary (1 person)

27. Weaver/Fishermen/Tribal Affairs Secretary (1 person)

28. Assistant Treasurer (1 person)

29. Assistant Organizing Secretary (2 persons)

30. Assistant Deputy Secretary (1 person)

31. Assistant Publicity Secretary(1 person)

32. Assistant Liberation War Affairs Secretary(1 person)

33. Assistant Secretary, Religious Affairs (1 person)

34. Assistant Secretary, Women's Affairs (1 person)

35. Assistant Secretary, Youth Affairs (1 person)

36. Assistant Secretary, Volunteer Affairs (1 Person)

37. Assistant Secretary, Student Affairs (1 person)

38. Assistant Secretary, Labor Affairs (1 Person)

39. Assistant Secretary, Agricultural Affairs (1 person) [ Environmental Affairs Assistant Secretary in Municipal and Metropolitan Police Stations]

40. Executive Members (50 people)

A total of 101 people

The district committee will approve the Upazila/ police station executive committee. The Metropolitan Committee will approve the Metropolitan Thana Committee.


5) Municipal Council and Municipal Executive Committee

The municipal council of the party will be formed with the members of the executive committee of each ward belonging to each municipality. The council will elect a municipal executive committee of less than 101 people on the pattern of upazila/municipal police station committee from among the members of the council for a period of two years. This executive committee will get the status of upazila/ police station executive committee. The district committee will approve this committee.

6) Metropolitan Council and Metropolitan Executive Committee

The metropolitan council of the party will be formed in that metropolis with the members of the executive committee of each police station in the metropolis. This Council shall elect from among the members of the Council for a period of two years a Metropolitan Executive Committee of not less than 151 members consisting of the following officers and members. The metropolitan executive committee of the party will get the status of the district executive committee of the party.

Metropolitan Executive Committee

1. President (1 person)

2. Vice President (15 people)

3. General Secretary (1 person)

4. Joint Secretary(5 people)

5. Treasurer (1 Person)

6. Organizing Secretary (3 persons)

7. Deputy Secretary (1 person)

8. Publicity Secretary(1 person)

9. Liberation War Affairs Secretary (1 person)

10. Publications Secretary(1 person)

11. Law Affairs Secretary (1 person)

12. Women Affairs Secretary (1 person)

13. Youth Affairs Secretary (1 person)

14. Student Affairs Secretary (1 person)

15. Labor Affairs Secretary(1 person)

16. Volunteer Affairs Secretary (1 person)

17. Training Affairs Secretary(1 person)

18 Information and Research Affairs Secretary (1 person)

19. Expatriate Welfare Affairs Secretary (1 person)

20. Religious Affairs Secretary (1 person)

21. Human Rights Affairs Secretary(1 person)

22. Health and Family Welfare Affairs Secretary(1 person)

23. Environment Affairs Secretary(1 person)

24. Children Affairs Secretary (1 person)

25. Relief and Rehabilitation Affairs Secretary (1 person)

26. Secretary, Microcredit and Cooperative Affairs (1 person)

27. Sports and Cultural Affairs Secretary (1 person)

28. Mass Education Affairs Secretary (1 person)

29. Local Government Affairs Secretary (1 person)

30. Industry and Commerce Affairs Secretary(1 person)

31. Weaver/Fishermen/Tribal Affairs Secretary (2 persons)

32. Assistant Treasurer (1 person)

33. Assistant Organizing Secretary (3 persons)

34. Assistant Deputy Secretary (2 persons)

35. Assistant Publicity Secretary(1 person)

36. Assistant Secretary, Liberation War Affairs (1 person)

37. Assistant Secretary, Religious Affairs (3 people)

38. Assistant Secretary, Law Affairs (3 people)

39. Assistant Secretary, Women's Affairs (2 people)

40. Assistant Secretary, Youth Affairs (1 person)

41. Assistant Secretary Volunteer Affairs (1 person)

42. Assistant Secretary Student Affairs (1 person)

43. Assistant Secretary, Labor Affairs (1 person)

44. Assistant Secretary, Environment Affairs (1 person)

45. Assistant Secretary, Training Affairs (1 Person)

46. Assistant Secretary, Information and Research Affairs (1 person)

47. Assistant Secretary, Local Government Affairs (1 person)

48. Executive Members (75 people)

A total of 151 people

On the advice of the chairman, the general secretary of the party will give approval to the metropolitan executive committee.

7) District Council and District Executive Committee

The District Council will be constituted with the members of the executive committee of each upazila/ police station and municipality under the administrative and political district. This Council shall elect a District Executive Committee of not less than 151 members consisting of the following officers and members from among the members of the Council for a term of two years.

District Executive Committee

1. President (1 person)

2. Vice President (15 people)

3. General Secretary (1 person)

4. Joint Secretary (5 people)

5. Treasurer (1 Person)

6. Organizing Secretary (3 persons)

7. Deputy Secretary (1 person)

8. Publicity Secretary (1 person)

9. Liberation War Affairs Secretary (1 person)

10. Publications Affairs Secretary (1 person)

11. Law Affairs Secretary (1 person)

12. Women Affairs Secretary (1 person)

13. Youth Affairs Secretary (1 person)

14. Student Affairs Secretary (1 person)

15. Labor Affairs Secretary (1 person)

16. Agriculture Affairs Secretary (1 person)

17. Volunteer Affairs Secretary (1 person)

18. Training Affairs Secretary (1 person)

19. Information and Research Affairs Secretary (1 person)

20. Expatriate Welfare Affairs Secretary (1 person)

21. Economic Affairs Secretary (1 person)

22. Religious Affairs Secretary (1 person)

23. Human Rights Affairs Secretary (1 person)

24. Health and Family Welfare Affairs Secretary (1 person)

25. Environment Affairs Secretary (1 person)

26. Children Affairs Secretary (1 person)

27. Relief and Rehabilitation Affairs Secretary (1 person)

28. Secretary, Microcredit and Cooperative Affairs (1 person)

29. Sports and Cultural Affairs Secretary (1 person)

30. Mass Education Affairs Secretary (1 person)

31. Local Government Affairs Secretary (1 person)

32. Industry and Commerce Affairs Secretary (1 person)

33. Weaver/Fishermen/Tribal Affairs Secretary (2 persons)

34. Assistant Treasurer (1 Person)

35. Assistant Organizing Secretary (3 persons)

36. Deputy Assistant Secretary (2 persons)

37. Assistant Secretary, Publicity (1 Person)

38. Assistant Secretary, Liberation War Affairs (1 person)

39. Assistant Secretary, Publications Affairs (1 Person)

40. Assistant Secretary, Legal Affairs (3 people)

41. Assistant Secretary, Women's Affairs (1 Person)

42. Assistant Secretary, Youth Affairs (1 Person)

43. Assistant Secretary, Volunteer Affairs (1 Person)

44. Assistant Secretary, Student Affairs (1 Person)

45. Assistant Secretary, Labor Affairs (1 person)

46. Assistant Secretary, Agriculture Affairs (1 Person)

47. Assistant Secretary, Religious Affairs (2 people)

48. Assistant Secretary, Environment Affairs (1 Person)

49. Assistant Secretary, Training Affairs (1 Person)

50. Assistant Secretary, Information and Research Affairs (1 Person)

51. Executive Members (74 people)

A total of 151 people

The general secretary of the party will approve the district committee on the advice of the chairman.

By 2020, the number of women members in all committees should be increased to 33 percent. The executive committees at different levels of the party will implement, supervise and control the party programs in their respective areas.

The new committee will be elected by the council within 3 (three) months after the expiry of the tenure of all committees from ward committee to district/metropolitan committee. If it is not possible to form a new committee through election within this period, the senior committee can extend the term of the concerned committee for the next 3 (three) months for reasonable reasons. If the new committee is not formed within this period, the previous committee will be deemed canceled and the senior committee will form the convening committee within 3 (three) months of the concerned area on the condition of forming the committee through the council. If the convening committee fails to form a full-fledged committee within the stipulated time, the center will form a committee for a fixed period.

From Ward to Metropolitan/District Committees, concerned committees can take action against officers and members for the purpose of maintaining internal order. However, in order to expel someone temporarily, the permission of the sanctioning committee and in order to expel someone, the permission of the national executive committee or the chairman of the party must be obtained.

No one can cancel any committee without the approval of the centre. However, the sanctioning committee can temporarily suspend the activities of the sanctioned committee with the approval of the concerned senior committee. In such cases, the matter of decision-making should be reported to the Secretary General of the National Executive Committee with full explanation and the decision of the Standing Committee or Chairman of the party in this regard shall be considered final.

8) National Council

a) The Party shall have a National Council called 'National Council' whose constitution shall be as follows:

1) President and General Secretary of each Upazila/Thana Executive Committee (including Metropolitan Thana);

2) President and General Secretary of each Pouroshova Executive Committee;

3) President and General Secretary of each Metropolitan Executive Committee;

4) President and General Secretary of each District Executive Committee;

5) Two women members from each district and metropolis nominated by the executive committee of each district and metropolis;

6) Members of the Parliamentary Party

7) Officers and members of the National Executive Committee;

8) Members of the Chairman's Advisory Council;

9) Members of the National Standing Committee and

10) 10 percent of the total number of members from 1 to 9 mentioned above nominated by the Chairman.

b) Responsibilities and powers of the National Council

1) To implement and implement the policies and programs of the party as described in the constitution of the party and determined and introduced by the National Standing Committee on the basis thereof;

2) holding elections for the members of the National Standing Committee of the party and the officers and members of the National Executive Committee;

3) Amending the constitution of the party;

4) To consider any matter referred by the chairman of the party;

5) to consider the report of the Secretary-General;

6) To consider other important matters proposed by 1/3 (one-third) members of the National Council.


9) National Standing Committee

The Chairman, Senior Vice Chairman and General Secretary of the party shall be deemed to be elected members of the National Standing Committee. Including them, the number of members of the National Standing Committee will be 19. The Chairman will be the head of the committee and he will convene the meeting of the standing committee. The members of the National Standing Committee shall be ex-officio members of the National Council. The National Standing Committee shall perform the following duties and responsibilities:

a) As the main policy-making body of the party, this committee will formulate and introduce party policies and programmes.

b) The committee shall have the power to take disciplinary action against the officers and members of all other levels of the party except the removal of the Chairman and review the disciplinary action taken.

c) This committee shall interpret party's manifesto, constitution, rules, by-laws and clauses in a proper and consistent manner as necessary and that interpretation shall be considered final.

d) The committee will pay special attention to ensure that the members of the party show due respect and abide by the declaration, constitution, clauses and sub-clauses, rules and bye-laws of the party.

e) This committee shall give approval to the important pamphlets and other publications of the party and without the approval of this committee no important pamphlet or publication of the party shall be published or distributed.

f) This committee can order the temporary suspension of the work of any executive committee from the ward level to the national level or if necessary cancel it and order re-election. For re-election, the Standing Committee may order the reconstitution and re-election of the Executive Committee concerned by constituting a convener or in special cases a convening committee.

(g) The Committee may direct the National Executive Committee and the thematic sub-committees to submit reports on any matter under their purview.

h) This committee shall control and supervise the activities of the National Executive Committee and other committees nominated by the Chairman.



তফসিল-১

ফরম ‘ক’




বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক ঘোষিত বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

 ভিশন - ২০৩০

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ স্বপ্ন দেখেছিল। সেই স্বপ্ন ছিল ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সাম্যের। জনগণের এই স্বপ্ন আজও সফল হয়নি। স্বৈরশাসন ও দুঃশাসনের যাঁতাকলে স্বপ্নগুলো চুরমার হয়ে গেছে। আজ আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নতুন করে শপথ নিতে হবে। বাংলাদেশের সকল ধর্ম বিশ্বাসের মানুষ, ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীসহ সকল জাতি-গোষ্ঠী ও মানুষের চিন্তা চেতনা ও আশা আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে একটি অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারসম্পন্ন, জনকল্যাণমূলক, সহিষ্ণু, মানবিক, শান্তিকামী ও সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (BNP) লক্ষ্য।


বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই হবে সকল উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। যে সব বাধা জনগণের মেধা, শ্রম, উদ্যোগ এবং উৎসাহকে দমিয়ে দেয় সেগুলোকে দূর করে বিএনপি বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, আধুনিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে ভিশন - ২০৩০ প্রণয়ন করেছে।


গণতন্ত্র

১.   বিএনপি মনে করে বাংলাদেশের জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল আজ সে রাষ্ট্রের মালিকানা তাদের হাতে নেই। তাই দেশের জনগনের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে চায় বিএনপি।

২.   বিএনপি এমন এক উদার গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাস করে যেখানে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হবে। যত সংখ্যালঘিষ্ঠই হউক না কেন, কোন মত ও বিশ্বাসকে অমর্যাদা না করার নীতিতে বিএনপি দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।

৩.   আমরা ‘ওয়ান ডে ডেমোক্রেসিতে’ বিশ্বাসী নই। জনগণের ক্ষমতাকে কেবল নির্বাচনের দিন বা ভোট দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়না বিএনপি। নিত্যদিনের জন-আকাক্সক্ষাকে মর্যাদা দিয়ে তাদেরকে স¤পৃক্ত করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করবো আমরা।  

৪.   সুধি সমাজ, গণমাধ্যম, জনমত জরিপ, জনগণের দৈনন্দিন চাওয়া-পাওয়া, বিশেষজ্ঞ মতামত ও সব ধরণের অভিজ্ঞানের নির্যাস গ্রহণ করে দেশ পরিচালনা করা বিএনপি’র লক্ষ্য। কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং ‘গণতন্ত্রের চাইতে উন্নয়ন শ্রেয়’এ অজুহাতে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানোর অপচেষ্টা জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি রুখে দেবে।

৫.   বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপর ন্যস্ত। এ রূপ ব্যবস্থা সংসদীয় সরকার পদ্ধতির স্বীকৃত রীতির পরিপন্থী। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেশবাসী গভীরভাবে উপলব্ধি করছে যে, প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে। এ রূপ অবস্থার অবসানকল্পে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে।

৬.   সংবিধানের এক-কেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুন্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে পরিক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হবে।

৭.   আওয়ামীলীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংবিধানের পঞ্চদশ ও ষষ্ঠদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোট ব্যবস্থা বাতিল, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, সংসদ বহাল রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান প্রবর্তন, সংবিধানের কিছু নির্ধারিত বিষয় সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ, কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য করার বিধান প্রবর্তন, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্তকরণের বিধানসহ কয়েকটি অগণতান্ত্রিক বিধান প্রণয়ন করেছে। বিএনপি এসব বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক বিধানাবলী পর্যালোচনা ও পুন:পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার করবে। 

৮.   বিএনপি সংবিধানে ‘‘গণ-ভোট’’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করবে।

৯.   জাতীয় সংসদকে সকল জাতীয় কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। জাতীয় স্বার্থ স¤পর্কিত বিষয়ে বিরোধী দলসমূহের সাথে আলোচনা করা হবে। পাবলিক একাউন্টস কমিটি এবং পাবলিক আন্ডারটেকিংস কমিটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলের সদস্যদের উপর অর্পণ করা হবে। সরকারি এবং বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে সংসদের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ব্যাক বেঞ্চারদের মধ্যে বিভিন্ন caucus গঠনের জন্য উৎসাহ দান করা হবে। 

১০.   শরতের আকাশে সাতটি রঙের বিচিত্র প্রভা নিয়ে রঙধনু যেভাবে মনোরম সৌন্দর্যের বিচ্ছূরণ ঘটায়, আমরা চাই সকল মত ও পথকে নিয়ে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি লালন ও পরিপুষ্ট করতে যে সংস্কৃতি বাংলাদেশকে একটি Rain-Bow Nation এ (রঙধনু-জাতিতে) পরিণত করবে।

১১.   বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র "বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার " কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে জাতিকে পৌঁছাতে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ। এজন্য সুনীতি, সুশাসন এবং সু-সরকারের (3G) সমন্বয় ঘটাবে বিএনপি।


জাতি গঠন

১২.   বিএনপি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটাতে চায়।

১৩.   জাতির সকল অংশ তথা ধর্মীয়, আঞ্চলিক ও নৃ-গোষ্ঠীগত পরিচয় এবং নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণী ও গোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে একটি সুসংহত জাতি গঠন করাই বিএনপি’র লক্ষ্য।

১৪.   সকল জনগণের বৃহত্তর সম্মিলনের মাধ্যমে ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ গড়ে তোলার মহৎ লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়াই বিএনপি’র নীতি। এ জন্য প্রয়োজন হবে সকল প্রকার বৈষম্য ও ভেদবুদ্ধির (discrimination) বেড়াজালকে অতিক্রম করে দেশ গঠনে সবার কর্মপ্রয়াসকে কাজে লাগানো।

১৫.   বিএনপি চায় বিভক্ত হয়ে পড়া এ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। তাই সকল মতাদর্শের ঐকতান রচনার জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার সেতুবন্ধ রচনাই হবে বিএনপি’র প্রয়াস।

১৬.   প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি। এজন্য নতুন এক সামাজিক চুক্তিতে (Social Contract) পৌঁছাতে বিএনপি সচেষ্ট হবে।


সুশাসন

১৭.   গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সুশাসনের জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (যেমন নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল, এটর্নি জেনারেল ইত্যাদি) এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, আইন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ইত্যাদি) স্বার্থপরতা ও দলীয়তার কালিমা মুক্ত করে এগুলোর দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি ও প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ নেবে বিএনপি।

১৮.   বিগত দিনগুলোতে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। এ কারণেই ব্যক্তির বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং দলীয় আনুগত্যকে বিবেচনায় না নিয়ে কেবলমাত্র সততা, দক্ষতা, মেধা, যোগ্যতা, দেশ-প্রেম ও বিচার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রশাসন-যন্ত্র, পুলিশ এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে বিএনপি।

১৯.   প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, সততা, মেধার উৎকর্ষ এবং সৃজনশীলতাকে বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। দলীয় ও সকল প্রকার আইনবহির্ভূত হস্তক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর আইনানুগভাবে কর্তব্য পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।

২০.   বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোন আপস করবে না। সমাজের সর্বস্তরে দুষ্টক্ষতের মত ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির রাশ টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

২১.   প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল’- Ô(Ombudsman)Õ এর পদ সৃষ্টি করা হবে।

২২.   বাংলাদেশ আজ নিরাপত্তাহীন ঝুঁকিপূর্ণ এক জনপদে পরিণত হয়েছে। মাতৃগর্ভের শিশুও নিষ্ঠুর অপরাধের থাবা থেকে মুক্ত নয়। বিচারালয় আজ বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের দমনে ব্যবহৃত হওয়ার ফলে বিচার প্রার্থীরা আদালতের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে আশংকাজনকভাবে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। সে লক্ষ্যে জনপ্রশাসন, বিচার, পুলিশ ও কারাগার এ চার প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছ, দক্ষ, আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

২৩.   বিএনপি মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদায় বিশ্বাসী; আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। অবশ্যই আইনের শাসনের নামে কোন প্রকার কালা-কানুনের শাসন গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপি সকল প্রকার কালা-কানুন বাতিল করবে। সকল প্রকার নিষ্ঠুর আচরণ থেকে মানুষকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম, খুন এবং অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটাবে বিএনপি।

২৪.   বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে।

২৫.   মানবাধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হবে।

২৬.   এটা সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত যে বর্তমানে বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নেই। সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন এবং কর্ম নির্ধারণের একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হবে মেধা। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, দেশপ্রেম, বিচার-বোধ ও সুনামের কঠোর মানদন্ডে যাচাই করে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ করা হবে। যোগ্যতা, মেধা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদন্ড সম্বলিত আইন প্রণয়ন করে বাছাই কমিটি ও সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত/সুপারিশকৃত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য ও সম্পদ বিবরণী জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

২৭.   বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করে জনগণের জন্য ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে। অধস্তন আদালতকে নির্বাহী বিভাগের আওতামুক্ত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় স্থাপন করা হবে। 

২৮.   দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও বিচারপ্রার্থীদের নিকট দায়বদ্ধ করার জন্য সমস্ত বিচার প্রশাসন ও বিচার প্রক্রিয়াকে পরিপূর্ণভাবে ইলেকট্রনিক/অন-লাইন ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করা হবে। আদালতের উন্মুক্ত তথ্য বিচার প্রার্থীরা ইলেকট্রনিক পদ্ধতি/অন-লাইন ও মোবাইল ফোন টেকনোলজীর মাধ্যমে জানতে পারবে।

২৯.   প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে মামলার জট কমিয়ে আনা হবে।

৩০.   নিম্ন আদালতে বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে সমাজে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা সম্মানীয়, নীতিবান ও আদর্শ মানুষদের দিয়ে পাইলট ভিত্তিতে ‘জুরি’ ব্যবস্থার পুনঃ প্রবর্তন করা হবে।

৩১.   আদালতে মামলার বোঝা কমানো এবং স্থানীয় বিচার ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গ্রাম-আদালতকে উপযুক্ত সংস্কারের মাধ্যমে কার্যকর আদালত হিসাবে রূপান্তর করা হবে। বর্তমানে বিদ্যমান ইউনিয়ন কাউন্সিল ব্যবস্থায় গ্রাম-আদালতের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী অনানুষ্ঠানিক সালিশী আদালত পুনঃপ্রবর্তন করা যায় কিনা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

৩২.   বর্তমান বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে।

৩৩.   বর্তমানে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয় না। এটা ডিনায়েল অব জাস্টিস। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য দেশব্যাপী থানাগুলোতে অন-লাইন পদ্ধতি ও মোবাইল টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ সৃষ্টি করে ফৌজদারী বিচার প্রার্থীদের আইনের নিরাপত্তা পাওয়ার সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৩৪.   পুলিশ বাহিনীকে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। জনগণের সেবক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশের মোটিভেশন, ট্রেইনিং ও নৈতিক উন্নয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সিআরপিসি, পিআরবি, পুলিশ আইন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পুলিশের উপর বিচার বিভাগীয় তদারকি (Judicial Oversight) নিশ্চিত করে জবাবদিহি ও কল্যাণমূলক জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে।

৩৫.   দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সঙ্গতি রেখে পুলিশ বাহিনীকে দক্ষতাসম্পন্ন যুগোপযোগী সুসজ্জিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। জনগণের জান-মাল ও সম্ভ্রম রক্ষা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষভাবে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি চৌকষ, দক্ষ, নিরপেক্ষ, জনকল্যাণমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর অনাকাঙ্খিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে।

৩৬.   পুলিশের কনস্টবল/ট্রাফিক পুলিশ এবং এএসআই পর্যন্ত নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে একটানা ৮ ঘন্টার বেশি দায়িত্ব দেয়া হবেনা/দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ঝুঁকিভাতা এবং ৮ ঘন্টার অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কর্মঘন্টা হারে যুক্তিসংগত ওভার-টাইম ভাতা প্রদান করা হবে। এএসআই থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত পুলিশের আবাসন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

৩৭.   দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

৩৮.   দেশবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ ও জনপ্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য পদে নিয়োগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত বিশ্বাস-অবিশ্বাস ও দলীয় আনুগত্যের সংকীর্নতা মুক্ত থেকে মেধা, সততা, দক্ষতা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম, নীতিবোধ ও বিচারক্ষমতার উপর নির্ভর করে জনপ্রশাসনকে পুনর্বিন্যাস করা হবে।

৩৯.   একটি দক্ষ, স্বচ্ছ, গতিশীল, মেধাবী, জবাবদিহিমূলক যুগোপযোগী ও গণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ সংস্কার করা হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী ও প্রান্তিক নৃ-গোষ্ঠী কোটা ব্যতিরেকে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে। গতিশীল বিশ্বায়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংবিধানের আলোকে একটি যথোপযুক্ত সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন করা হবে। সকল পর্যায়ে ই-গভার্ন্যান্স চালু করা হবে। জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। 


প্রতিরক্ষা

৪০.   একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অখন্ডতা সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে। গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের ভিত্তি ও বিন্যাস প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হবে। জাতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হবে।



পররাষ্ট্র নীতি

৪১.   বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিএনপি অন্য কোন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অন্য কোন রাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করবে  না। একইভাবে বিএনপি দৃঢ় অঙ্গীকার করছে যে অন্য কোন রাষ্ট্রও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করলে শক্ত প্রতিরোধ (resistance) গড়ে তোলা হবে। বিএনপি বিশ্বাস করে, আমাদের সীমান্তের বাইরে বাংলাদেশের বন্ধু রয়েছে, কোন প্রভু নেই। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। বিএনপি মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিবেশি দেশসমূহের সাথে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলবে।

নৈতিকতার শক্তি পুনরুদ্ধার

৪২.   বাংলাদেশে নৈতিক মূল্যবোধের ভয়াবহ অবক্ষয় ঘটেছে। এর ফলে সমাজে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিএনপি গণমাধ্যম, একাডেমিক-কারিক্যুলাম, সঠিক ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং ইতিবাচক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় প্রতিরোধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

৪৩.   ছাত্র ও মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদেরকে মানবিক, সহিঞ্চু, ন্যায়ানুগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমতাভিত্তিক সমাজ সৃষ্টির সঠিক ও যথাযথ চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা হবে।  


পরিষেবা

৪৪.   দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা, জনগণের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাব, সামাজিক বৈষম্য, জবাবদিহিতার অভাব, জনসচেতনতার অভাব এবং সর্বোপরি পরিষেবা উৎপাদন ও বিতরণে জনগণের অংশগ্রহণ না থাকার ফলে পরিষেবাগুলোর সুফল জনগণ পায় না। বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানীয় জলের সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাষন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পুলিশী সেবা, বিচারিক সেবা, স্বাস্থ্য সেবা, প্রশাসনিক সেবাসহ সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসমূহের সেবার মান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হবে।

৪৫.   বিদ্যুৎ সরবরাহ, সুপেয় পানীয় জলের সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পুলিশী সেবা, বিচারিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনিক সেবাসহ সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসমূহের সেবা প্রাপ্তিতে প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করা হবে।


সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী

৪৬.   দারিদ্র্য নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত হত-দরিদ্র (ultra poor) মানুষদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও সম্প্রসারিত করা হবে, যাতে করে একটি দরিদ্র দুঃস্থ মানুষও নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে না থাকে। মূল্যস্ফীতির নিরিখে এর মাথাপিছু পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে। অতিস্বল্প আয়ের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারী রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৪৭.   সকল দুঃস্থ বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা এবং অসহায় বয়স্কদের ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতির নিরিখে বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ ভাতা ব্যবস্থাকে দুর্নীতি ও ত্রুটিমুক্ত করা হবে।

৪৮.   বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য বার্ধ্যক্যের দুর্দশা লাঘবের উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একটি “পেনশন ফান্ড” গঠন করা হবে। প্রবীণদের শেষ বয়সের দিনগুলোতে দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য প্রতিমাসে পেনশন দেয়া হবে। বেসরকারি খাতে নিয়োজিত প্রত্যেকের আয়ের নির্দিষ্ট অংশ এই ফান্ডে জমার ভিত্তিতে পেনশন ফান্ডটি গড়ে তোলা হবে এবং এর জন্য ন্যায্য হারে মুনাফা প্রদান করা হবে। সক্রিয় কর্মজীবনের শুরু থেকে কর্মজীবনের অবসান পর্যন্ত এই ফান্ডে অর্থ জমা রাখা যাবে। প্রয়োজনীয় বিধি মোতাবেক এই ফান্ডধারীকে ফান্ড থেকে ঋণ দেয়া হবে। এ ফান্ডের অর্থ উন্নয়ন অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ করা যাবে।

৪৯.   বাংলাদেশের দারিদ্র্য-পীড়িত, দুঃস্থ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামোগত সুযোগ বঞ্চিত এলাকাগুলো তৃণমূলে জরিপের ভিত্তিতে চিহ্নিত (mapping) করা হবে। এসব এলাকার হত-দরিদ্র মানুষগুলোকে স্বল্পমেয়াদী বৈষয়িক সাহায্য দিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়া হবে। মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে এসব এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভৌত অবকাঠামোগত সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তাদেরকে ভবিষ্যতে খয়রাতি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল থাকতে না হয়। বার্ধক্য, প্রতিবন্ধীত্ব এবং রোজগারকারী না থাকার ফলে যারা দুঃস্থ অবস্থায় আছেন তাদেরকে অব্যহতভাবে নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসা হবে। এসব এলাকাগুলোকে স্থানীয় সরকারের নেতৃত্ব ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে সভা ডেকে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচীর উপকারভোগীদের স্বচ্ছতার সাথে চিহ্নিত করা হবে।

৫০.   বাস-ট্রেনে-লঞ্চে বিনা ভাড়ায় প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতের বিধান করা হবে।  



মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা

৫১.   দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকারের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের কাঙ্খিত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। বিএনপি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করবে।

৫২.   বিএনপি সকল মুক্তিযোদ্ধাদের “রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক” হিসাবে ঘোষণা করবে।

৫৩.   মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়নের নামে দুর্নীতির অবসান ঘটানো হবে। বিএনপি একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করবে।

৫৪.মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি করা হবে এবং এই ভাতা ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি ও ত্রুটিমুক্ত করা হবে।    

৫৫.   আগ্রহী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় যোগ্য ও দক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

৫৬.   দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা, ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গনকবর চিহ্নিত করে সে সব স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

৫৭.   রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের যে মূল্যায়ন করা হয়, দুঃখের বিষয় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়না। বিএনপি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরীপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি সঠিক তালিকা প্রণয়ন করবে এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করবে। মূল্যস্ফীতির নিরিখে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের বাস-ট্রেনে-লঞ্চে যাতায়াতে নির্ধারিত ভাড়ার অর্ধেক মূল্যে যাতায়াতের বিধান করা হবে।


সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ

৫৮.   বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ জাতির জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। গনতন্ত্রের অনুপস্থিতি, আইনের শাসনের অভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এদেশে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ বিস্তারে অন্যতম কারন। এই সমস্যার সমাধান না করতে পারলে জাতীয় উন্নয়নে সকল প্রয়াসই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। জাতি এক ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়বে। এই জন্য বিএনপি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৫৯.   সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ সকল রাষ্ট্রের জন্যই হুমকির কারণ। এ কারণে বিএনপি বাংলাদেশের ভূখন্ডের মধ্যে কোনরকম সন্ত্রাসবাদী তৎপরতাকে বরদাশত করবে না এবং সন্ত্রাসবাদীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। জঙ্গীবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং জনগণের অংশগ্রহণে সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করা হবে।

৬০.   জঙ্গীবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকৌশল হিসাবে দারিদ্র্য দূরীকরণ, বেকার সমস্যার সমাধান, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তি ও সম্প্রীতির মূল্যবোধ শক্তিশালী করা এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে উৎসাহিত করা হবে।


অর্থনীতি

৬১. বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য এ পরিস্থিতি একেবারেই কাম্য নয়। বিএনপি দরিদ্রবান্ধব ও সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাসী। প্রবৃদ্ধির হারকে বৃদ্ধি করে এবং এর সুফলের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে বিএনপি ধনী দরিদ্রের বৈষম্যের সমস্যাকে মোকাবেলা করবে।

৬২. আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। এসময়ের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৫০০০ মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হবে। এর জন্য বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ডবল ডিজিটে উন্নীত করার সৃজনশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

৬৩.    বাংলাদেশে ভূমির দূষ্প্রাপ্যতার ফলে ম্যানুফেক্চারিং ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে ভূমির অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করে শিল্প স্থাপন করার এবং অন্যদিকে ভূমির সীমিত ব্যবহার ভিত্তিক আধুনিক সেবা খাত যেমন- ব্যাংক, ইন্সিওরেন্স ও ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, আইটি ইন্ডাস্ট্রি, বিনোদন শিল্প, পর্যটন শিল্প, পরিবহন, টেলিকমিউনিকেশন, দূর-শিক্ষণ, এয়ার-হাব (Air-Hub), ওয়াটার হাব (Water-Hub), সিকিউরিটি সার্ভিস, বন্দর ও জাহাজ, টেলি-মেডিসিন ইত্যাদি সমৃদ্ধ করার উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হবে। 

৬৪. দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্ত্বশাসন, ক্ষমতা ও তদারকি নিবিড় ও শক্তিশালী করা হবে। শেয়ারমার্কেট এবং ব্যাংক লুটের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন দুর্নীতি-অনাচার করতে না পারে সেই লক্ষ্যে সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ব¡ ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডে যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হবে। ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। অর্থমন্ত্রনালয়ের ব্যাংকিং ডিভিশন বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকসমূহ পরিচালনা ও তদারকির ভার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ন্যস্ত করা হবে।


গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D)

৬৫.   যে কোন আধুনিক ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন (Research & Development -R&D) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি দেশের ব্যক্তি-খাতে নতুন ধরনের পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া উদ্ভাবিত না হলে ব্যক্তিখাত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না। যে সব উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে R&DÕর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়ের অন্তত ৩% জ্উ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ রাখতে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা প্রদান করা হবে। R&D’র জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রকৌশলি, শিল্পবিজ্ঞানী এবং গবেষক। R&D খাতে বিনিয়োগ অনিশ্চিত ফলবাহী ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। বিএনপি R&D খাতে ব্যক্তি-খাত সহায়ক বাজেট বরাদ্দ রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক কোম্পানীগুলোর সেতুবন্ধন রচনায় উৎসাহ প্রদান করা হবে। R&D খাতের উন্ন্য়নের জন্য মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণাকে উৎসাহিত করা হবে। R&D’র মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন পণ্য-সামগ্রী ও উৎপাদন প্রক্রিয়াকে patent করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিএনপি বিশ্বাস করে একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবী জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির জগতে প্রবেশ করেছে। বৈশ্বিক এই উন্ন্য়নের ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিএনপি R&D খাতের বিকাশ ও পরিবর্ধন করবে।



জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend)

৬৬.   জনমিতিকভাবে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকালে (transition) রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৩.২৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী কর্মক্ষম বয়সের মধ্যে পড়ে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এর বিশাল তাৎপর্য রয়েছে। যে দেশে শিশু কিশোর ও বৃদ্ধ বয়সী মানুষের সংখ্যা কম সে দেশে বেশিরভাগ কর্মক্ষম মানুষকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করা সম্ভব। তবে এই ধরনের সুযোগ একটি জাতির জীবনে একবারই ঘটে। একদিকে শিশুরা কর্মক্ষম মানুষের আয় রোজগারের উপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে বৃদ্ধরাও কর্মক্ষম মানুষের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত ভারি হলে দ্রুত এবং উচ্চহারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। কর্মক্ষম মানুষ বলতে নারী এবং পুরুষ উভয়কেই বোঝায়। জনমিতিক ক্রান্তি থেকে উদ্ভুত সুবিধা গ্রহণ করতে পেরেছিল বলেই দক্ষিণ কোরিয়া আজ একটি উন্নত রাষ্ট্র। নাইজেরিয়া এই সুযোগটি ব্যবহার করতে পারেনি বলেই সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্র্যে নিমজ্জিত।

৬৭.   এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এক প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০২৫ সালে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা হবে ৭ কোটি ৮০ লক্ষ। যা ২০১০ সালে ছিল ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ। ২০১০ সালে কর্মক্ষম মানুষের দুই তৃতীয়াংশ ছিল খুবই কম শিক্ষিত এবং মাত্র ৪ শতাংশ কোন না কোন ধরনের প্রশিক্ষণ পেয়েছিল। বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে জানা যায় বাংলাদেশে প্রতি বছর ২২ লক্ষ মানুষ কর্ম-বাজারে প্রবেশ করে, এর মধ্যে মাত্র ১০ লক্ষ মানুষ কাজ পায়। বাকিরা থাকে বেকার।

৬৮.   জনমিতিক ক্রান্তিকালের লভ্যাংশ সার্থকভাবে অর্জন করতে হলে সব কর্মক্ষম মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এটি একটি বিশাল যজ্ঞ। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাতীয় সঞ্চয়ের হার ন্যূনপক্ষে ৪০ শতাংশে বৃদ্ধি করতে হবে। এই সঞ্চয়ের পুরোটাই বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগের একটি অংশ ব্যবহৃত হবে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য। অন্য অংশ ব্যয় করতে হবে কৃষি শিল্প ও সেবাখাতকে দ্রুত উন্নততর পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য।

৬৯.   মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবর্তন আনতে হবে জনগোষ্ঠীর চিন্তার জগতে। দেশের তরুণদেরকে নন-টেকনিক্যাল 'Diploma Disease’ থেকে মুক্ত করতে হবে। অভিরুচি, সামর্থ্য, মেধা ও বাজার-চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে হবে। পেশাগত ও কারিগরি শিক্ষা, প্রকৌশল বিদ্যা, চিকিৎসা বিদ্যা, বিজ্ঞান শিক্ষা ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা, শত শত ধরনের ট্রেড ও পেশার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচী মানবসম্পদকে বিকশিত করতে পারে। ট্রেড ও পেশা যেমন- প্লাম্বার, ফিটার, ইলেক্ট্রিশিয়ান, ইলেকট্রনিক মেকানিক, হেল্থ টেকনিশিয়ান, নার্স, মাস্টার-টেইলার্স, ফ্যাশন-ডিজাইনার, কৃষি-যন্ত্রপাতি মেরামতকারী, লেদ-অপারেটর, গার্মেন্টস যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণকারী, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারিজ মেকানিক ও ইঞ্জিনিয়ার, হসপিটালিটি-সার্ভিস, হাউজ কিপিং, আসবাব-পত্র ডিজাইনার, চারু ও কারু শিল্প, ম্যাসনরি, রড-বাইন্ডার, ভূমি সার্ভেয়ার, রেল ওয়ার্কশপ টেকনিশিয়ান, যানবাহন-মেকানিক, মোটর ড্রাইভিং, প্রিন্টিং টেকনোলজিস্ট, মোবাইল টেলিফোন ও কম্পিউটার টেকনিশিয়ান ইত্যাদি। এর জন্য প্রয়োজন হবে গুণগতভাবে উন্নত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা। এর সমান্তরালে সকল পর্যায়ে শিক্ষকদের মানও উন্নত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও অধ্যাপকদের সহযোগিতাও গ্রহণ করতে হবে। সকল ধরনের ট্রেড ও পেশার শিক্ষার মান উন্নতকরন এবং সনদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারী ও বেসরকারী খাতকে দক্ষতার সংগে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তি ও কারিগরি ইন্সটিটিউটগুলোর ইন্সট্রাক্টর ও ট্রেইনারদের বিশেষ আর্থিক সুবিধা ও অন্যবিধ সুযোগ সুবিধা প্রদান করে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের Corporate Social Responsibility কর্মসূচীর সিংহভাগ মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যয় করতে উৎসাহিত করতে হবে। জনমিতিক ক্রান্তিকালের মূল কৌশল হবে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং তাদের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আকর্ষণীয় কর্ম-বাজার সৃষ্টি। প্রয়োজন শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও বিজনেস ফার্মের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা। অগ্রসর জ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্য প্রযুক্তি ও শিক্ষার মাধ্যমে মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন করা ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা। মানবসম্পদ উন্নয়নে অনুক্ত জ্ঞান (tacit knowledge), প্রায়োগিক জ্ঞান, তাত্ত্বিক জ্ঞান, প্রায়োগিক ও তাত্ত্বিক গবেষণাসহ সব ধরনের জ্ঞান চর্চার মধ্যে ভারসাম্য অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশকে একটি উন্নত, মর্যাদাশীল জাতি হতে হলে জনমিতিক ক্রান্তিকালের লভ্যাংশ অর্জনের বিকল্প কিছু নেই। জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনই হবে বিএনপি’র অন্যতম অগ্রাধিকার।

৭০.   ২০১৬ সনের জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচক (Human Development Index- HDI) অনুযায়ী বিশ্বের ১৮৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯ তম। এতে বুঝা যায় বাংলাদেশ এখনও মানব উন্নয়নে বিশেষ করে এর জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ গ্রহণে অর্থবহ কার্যক্রম নিতে পারেনি। বিএনপি ২০৩০ সনের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ মানব উন্নয়ন (High Human Development) স্কেলে উন্নীত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।



শিক্ষা ও মানব সম্পদ

৭১.   বংলাদেশের মত একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও সম্পদ-দরিদ্র দেশে শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসার ও মানব-সম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই। শিক্ষাকে কর্মমুখী ও ব্যবহারিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে। বিএনপি শিক্ষার প্রতিটি স্তরে গুণগত মান নিশ্চিত করবে এবং বিজ্ঞান শিক্ষায় অনগ্রসরতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শিক্ষা ধনিক শ্রেণীর একচেটিয়া অধিকার নয়। বিএনপি ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করবে। বিএনপি শিক্ষার সুযোগকে অনগ্রসর এলাকার জনসাধারণের দ্বার-প্রান্তে নিয়ে যাবে।

৭২.   এক দশকের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করা হবে।

৭৩.   শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫% অর্থ ব্যয় করা হবে।

৭৪.   উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষা হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে সমৃদ্ধ। গুরুত্ব দেওয়া হবে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার উপর। গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫.   শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য জাতীয় টিভিতে একটি পৃথক শিক্ষা চ্যানেল চালু করা হবে।

৭৬.   বিশ্বের মেধা জগৎ ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে বাংলাদেশের একটি নতুন মাত্রা যোগের জন্য বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজীসহ অন্যান্য বিদেশী ভাষা (কোরিয়ান, চীনা, জাপানী, জার্মান, আরবি, ফ্রেঞ্চ, ¯প্যানিশ ইত্যাদি) শেখার জন্য অধিকতর সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। ভাষার চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য সরকারী উদ্যোগে আরও বিদেশী ভাষা ইন্সটিটিউট গড়ে তোলা হবে এবং বেসরকারি খাতকে ভাষা ইন্সটিটিউট গড়ে তুলতে উৎসাহ ও প্রণোদনা দিয়ে নিবিড় রেগুলেটরি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে।

৭৭.   বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জনের সুবিধার্থে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে।

৭৮.   মেয়েদের এবং ছেলেদের জন্য ¯œাতক ও সমপর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৭৯.   বিএনপি'র শিক্ষানীতি হবে জীবনমুখী, ডিগ্রীমুখী নয়। আমাদের দেশে ব্যবস্থাপক, ব্যবসায়-প্রশাসক, কারিগরি ও অন্যান্য ধরনের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের মানবস¤পদের ঘাটতির ফলে বিপুল সংখ্যক বিদেশী আমাদের বিভিন্ন ব্যবসায় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এরা বাংলাদেশ থেকে নিজ নিজ দেশে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রেরণ করায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য আমাদের দেশেই প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবস¤পদ সৃষ্টি করতে হবে। এই লক্ষ্যে বিএনপি কার্যকর প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করে দেশের শ্রমশক্তিকে দ্রুত প্রশিক্ষিত করে তুলে স্বদেশেই তাদের কর্মসংস্থান করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা হরণ বন্ধ করে অর্থনীতিকে আরও সবল করবে। অদক্ষ শ্রমিকদের দেশী ও বিদেশী চাহিদার নিরিখে ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ভাষাশিক্ষা দিয়ে কর্মসংস্থানমুখী দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে বিএনপি যাবতীয় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

৮০.   সর্বপর্যায়ে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জেন্ডার ও অর্থনৈতিক বাধাসমূহ দূর করা হবে।

৮১.   দৈহিক, মানসিক এবং আবেগগতভাবে প্রতিবন্ধীদের যথোপযুক্ত শিক্ষা অর্জনের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিশেষ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষা উপকরণসহ পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

৮২.   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-সংসদের নির্বাচন নিশ্চিত করে ছাত্রদের মধ্য হতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের পথ সুগম করা হবে।

৮৩.   প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্যে দ্রব্য মূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে নিয়মিত বেতন ভাতাদি বৃদ্ধি করা হবে।

৮৪.   মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। তাদের কারিকুলামে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সংস্কারের আওতায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও আইটি এবং ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে, যাতে মাদ্রাসা শিক্ষিতরা উৎপাদনশীল কাজ, চাকরি, অন্যান্য পেশা ও উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে। উল্লেখ্য যে বিএনপি সর্বশেষ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকাকালীন কওমী মাদ্রাসার ‘দাওরায়ে হাদিস’ সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রীর সমমান ঘোষণা করে।  

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)

৮৫.   বর্তমান সরকার ICT সেক্টরে উন্নয়নের বাগাড়ম্বর করলেও বাস্তব চিত্র সুখকর নয়। International Telecommunication Union (ITU) এর এক তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে ICT সেক্টরে ১৭৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৫ তম যা মালদ্বীপ, নেপাল ও ভুটানেরও নিচে। বিএনপি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলায় সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে মানব সম্পদের উৎকর্ষ সাধন করা হবে।


৮৬.   অর্থনীতির ক্ষেত্রে সেবাখাত-নির্ভর উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সংগতি রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতকে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে রূপান্তর করা হবে। আউটসোর্সিং এবং সফটঅয়্যার খাতকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশ হতে অর্জিত অর্থ দেশে আনয়নের ক্ষেত্রে সকল প্রকার অযৌক্তিক বাধা দূর করা হবে। ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং এর সাথে জড়িত সকলকে সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্যে স্বল্প চার্জে Global Payment Gateway সুবিধা দেয়া হবে।


৮৭.   কনটেন্টস ক্রিয়েশন এবং পাবলিকেশন বিষয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি-কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।


৮৮.   Nationwide Telecommunication Transmission Network (NTTN), Internet Service Provider (ISP) এবং International Internet Gateway (IIG) মার্কেট উন্মুক্ত করে দেয়া হবে; এর ফলে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে, দক্ষতা বাড়বে এবং ইন্টারনেট ব্যয় হ্রাস পাবে।


৮৯.   VOIP উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এর ফলে বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ সহজ, সাশ্রয়ী ও সুলভ হবে। এতে করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। রপ্তানিমুখী শিল্প খাত, দেশীয় বাজারমুখী শিল্প খাত, ই-কমার্স, কম্পিউটিং আউটসোর্সিং উন্নয়নসহ বিভিন্ন আইসিটি কর্মকান্ডে বৃহৎ উল্লম্ফন ঘটবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দক্ষতা বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। VOIP খাতে চলমান দুর্নীতি ও লুণ্ঠন হ্রাস পাবে।


৯০.   প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও গবেষণাসহ যেসকল ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে সে সকল ক্ষেত্রে প্রযুক্তির পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এজন্য একটি সু¯পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।


৯১.   তথ্য প্রযুক্তিতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় পুরষ্কার প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। শ্রেষ্ঠ স্কুল, শ্রেষ্ঠ কলেজ ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ ফ্রিল্যান্সারের জন্য জাতীয় ICT এ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হবে।


৯২.   তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ সহজসাধ্য করা হবে। ICT খাতে বিদেশী বিনিয়োগ এবং দেশি বিদেশী যৌথ উদ্যোগ নিশ্চিত করতে যথোপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও নানামুখী প্রণোদনা প্রদান করা হবে। IT Innovation Fund’র সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সৃজনশীল ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিভাবান যুব সম্প্রদায় ও আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সফটঅয়্যার শিল্প ও আইটি সার্ভিস সেক্টরে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে। নবাগত উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী শক্তি যথাযথ ক্ষেত্রে প্রয়োগের লক্ষ্যে একটি পরামর্শক সংস্থা গড়ে তোলা হবে। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল উদ্যোক্তাদের জন্য বিদ্যমান ÒStart-up Fund” বিস্তৃত করে নানাবিধ আর্থিক প্রণোদনা ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করা হবে। ICT শিল্পের জন্য পুঁজিবাজারের মাধ্যমে Mutual Fund অথবা Venture Capital গড়ে তোলায় উৎসাহিত করা হবে।


৯৩.   বিএনপি ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোবাইল ডাটার জন্য এবং ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে সময়োপযোগী সর্বোচ্চ গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করবে। 


৯৪.   সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে একাধিক সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে bandwidth এর capacity বৃদ্ধি করে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। 


৯৫.   মোবাইল কোম্পানীগুলোর মাধ্যমে সারা দেশে বিশেষ করে মফঃস্বলে উচ্চ গতির 4G কভারেজ নিশ্চিত করা হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতে 4G বা তার চেয়ে উচ্চ গতির ইন্টারনেট কভারেজ নিশ্চিত করা হবে।


৯৬.   সফটঅয়্যার ও হার্ডঅয়্যার শিল্পে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয়া হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারের মূল উপাদানগুলো (যেমন:- স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ইত্যাদি) সাশ্রয়ী মূল্যে দেশে উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত সকল প্রকার উপকরণ সামগ্রীর উপর শূন্য শুল্ক সুবিধা বজায় রাখা হবে।


৯৭.   নিরবচ্ছিন্ন, স্থিতিশীল ও গুণগত মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও IT পার্ক (সরকারী ও বেসরকারী) স্থাপনের মাধ্যমে আধুনিক ICT অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। কালিয়াকৈরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফটঅয়্যার টেকনোলজি পার্ক, হাইটেক পার্ক, এডুকেশন পার্ক, কম্পিউটার ভিলেজ, আইটি ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান বিকাশ ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। সরকারী ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক হারে উচ্চ-ধারণ ক্ষমতাসমপন্ন data centre গড়ে তোলা হবে।


৯৮.   উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার সমর্থিত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। এ পর্যায়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষা চালু করা হবে। এ লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক সুপ্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।


৯৯.   প্রত্যেক জেলায় একটি করে ‘স্মার্ট স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং এসব স্কুল অন্যান্য স্কুলের জন্য মডেল প্রযুক্তি প্রদর্শকের (Technology Demonstrator) কাজ করবে।


১০০.   কম্পিউটার শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য প্রতি জেলায় একটি করে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট স্থাপন করা হবে।


১০১.   স্থানীয় সরকারের আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে আইটি ইন্সটিটিউট গড়ে তোলা হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করে আইটি খাতকে উৎসাহিত করা হবে। ২০২০ সালের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে এবং ২০২৫ সাল নাগাদ প্রাথমিক স্তরে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, হার্ড-অয়্যার, ল্যাবরেটরিসহ সব দিক থেকে উন্নততর আইটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি স্কুল কলেজের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স চালু করা হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাবলিক-প্লেসগুলোকে Free & Safe Internet Wi-Fi Zone এর আওতায় আনা হবে।  


১০২.   বিএনপি জনগণের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয় এমন সকল বাধা অপসারণ করবে। তথ্য প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি) বিষয়ক সকল আইনের (যেমন Cyber Security Act., ICT Act.. ইত্যাদি) অগণতান্ত্রিক ও নিয়ন্ত্রনমূলক ধারাসমূহ সংশোধন করা হবে।


১০৩.   ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সঠিক ও সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করে ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের উৎপাদক, আমদানিকারক, বিক্রেতা এবং ক্রেতার পৃথক পৃথক দায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে। ই-বর্জ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাতœক ক্ষতিকারক হওয়ায় ই-বর্জ্য হুমকির হাত থেকে রক্ষা পেতে দেশ জুড়ে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা ই-বর্জ্যসহ যাবতীয় ই-বর্জ্যের সঠিক কালেকশন সিস্টেম ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলা হবে।


১০৪.   তথ্য ও প্রযুক্তি খাত হবে বিএনপি’র বিশেষ অগ্রাধিকার খাত। 




ক্রীড়া

১০৫.   ২০৩০ সালের মধ্যে খেলাধুলার কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ যাতে একটি গ্রহণযোগ্য স্থান করে নিতে পারে সে লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

১০৬.   খেলাধুলায় আন্তর্জাতিক মান অর্জনের জন্য প্রতি জেলায় একটি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ক্রীড়া একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

১০৭.   মাল্টি গেমস্ ইভেন্ট (Multi Games Event) যেমন সাউথ এশিয়ান গেমস, এশিয়ান গেমস, কমন ওয়েলথ গেমস, অলিম্পিক গেমস ইত্যাদিতে বাংলাদেশের সম্মানজনক স্থান অর্জনের জন্য দেশে একটি আধুনিক জাতীয় অলিম্পিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

১০৮.   ক্রীড়া ও খেলাধুলার উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্রীড়া সরঞ্জামাদি সংগ্রহের জন্য সরকারী ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে। ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রীড়া ও খেলাধুলার মান উন্নয়নকে তাদের কর্পোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটির (CSR) অন্তর্ভুক্ত করতে আরও উৎসাহিত করা হবে।

১০৯.   স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়ার ক্ষেত্রে মূল্যায়নের ভিত্তিতে যাদেরকে প্রতিশ্রুতিবান বিবেচনা করা হবে তাদের একটি জাতীয় তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এ সব প্রতিশ্রুতিবান ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এদের মধ্য থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় সক্ষমদের চিহ্নিত করা হবে এবং জাতীয় ক্রীড়া ও খেলার টিমে এদের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা হবে। এছাড়া সামাজিক প্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে ক্রীড়া ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ স্কিম চালু করা হবে।

১১০.   আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মানজনক জাতীয় পুরষ্কার দেয়া হবে। প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিটে (উপজেলা, জেলা, বিভাগ) ক্রীড়া ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় পুরষ্কার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

১১১.   ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাকল্পে দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে।

সংস্কৃতি

১১২.   সংস্কৃতি একটি জাতির মুখচ্ছবি। সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে জাতির মনন ও রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিবন্ধী জাতি কখনও বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। জাতীয় সংস্কৃতির স্বরূপ গড়ে উঠবে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেল-বন্ধনে। সংস্কৃতি চর্চার লক্ষ্য হবে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, জাতির আত্ম-পরিচয় এবং নির্মল বিনোদনের জন্য পরিবেশ তৈরি করা। বহিঃর্বিশ্বের যা কিছু শুভ ও কল্যাণময় সে সব উপাদান জাতীয় সংস্কৃতির সংগে সমন্বিত করা হবে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনৈতিক আকাশ-সংস্কৃতি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা হবে। জাতীয় ঐতিহ্যের সংগে সংগতিপূর্ণ-সঙ্গীত, নৃত্য-কলা, নাটক, সাহিত্য চর্চা, চলচ্চিত্রসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানকে সমৃদ্ধ করা হবে। জাতীয় ভাবধারার পরিপন্থী অপসংস্কৃতি চর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার পথে সকল প্রকার বাধা অপসারণ করা হবে। সংস্কৃতির মাধ্যমে স্বাধীন চিন্তাধারা ও মতাদর্শের যেন সুষ্ঠু প্রতিফলন হয় তার জন্য গণতান্ত্রিক রীতি পদ্ধতির অনুসরণ করা হবে।

১১৩.   শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ ও সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা হবে।

১১৪.   জাতীয় সংস্কৃতির প্রধান প্রধান ক্ষেত্রে জাতীয় পদক প্রদানের রীতি আরও সম্প্রসারিত করা হবে।


বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ

১১৫.   বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ঝুঁকিমুক্ত অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুচিন্তিুত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

১১৬.   বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদার নিরিখে বিদেশে নিয়োগ প্রাপ্তিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশী ভাষাসহ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

১১৭.   অভিবাসন ব্যয় যুক্তিসংগত ও সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সমস্যাটির জটিলতা পরীক্ষা করে কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।

১১৮.   প্রবাসীরা যাতে তাদের কষ্টার্জিত আয় বৈধ পথে বাংলাদেশে প্রেরণ করতে পারে সে জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক এক্সচেঞ্জ হাউস/ব্যাংকের সংগে প্রণোদনা সুবিধাসহ রেমিট্যান্স প্রেরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

১১৯.   প্রবাসী বাংলাদেশীদের নানাবিধ সমস্যা বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিভিন্ন অধিকারের গুরুতর লংঘনের বিষয় দ্বিপাক্ষিক-চুক্তি বা সমঝোতা স্বারকের আলোকে সংশ্লিষ্ট সরকারের সাথে অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

১২০.   বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাসগুলো যাতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করে তা নিশ্চিত করা হবে। বিশ্বের যে সব দেশে ব্যাপক সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছে, ঐসব দূতাবাসে কনসুলার সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। দূতাবাসসমূহে কর্মরত লেবার উইং এর জনবল যুক্তিসংগত হারে বৃদ্ধি করে সেবা সহজলভ্য করা হবে।

১২১.   জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে এবং তাদের মতামত ও পরামর্শের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধাসহ বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

১২২.   বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের বিমান বন্দরে বিদ্যমান হয়রানি বন্ধ করা হবে। বিদেশ থেকে ফেরত আসা প্রবাসীদের যথাযথ তালিকা প্রস্তুত করে তাদের কল্যানে নানামুখী প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।

১২৩.   প্রবাসী বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান বিবেচনায় প্রবাসীদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাতীয় নির্বাচনে ভোট প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশ পরিচালনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।


মিডিয়া ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা

১২৪.   বিএনপি বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনাকে সব সময় স্বাগত জানায়। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচকের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব পালনে বিএনপি সর্বদা স্বচেষ্ট থাকবে।

১২৫.   তথ্য প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করা হবে।

১২৬.   প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার জন্য মুক্ত চিন্তা ও গণতান্ত্রিক চেতনার সাথে সংগতিপূর্ণ একটি নীতিমালা থাকা দরকার। বিএনপি সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট নাগরিক, আইটি বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠন করবে। কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অন-লাইন মিডিয়ার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

১২৭.   বিএনপি সৎ সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করবে এবং চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রুজুকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।


স্থানীয় সরকার

১২৮.   বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। ঢাকার সচিবালয় থেকে দেশ শাসন করা হবে না। দেশ চলবে তৃণমূলের জনগণের ইচ্ছায় ও মতামতের ভিত্তিতে। জনগণের স্বার্থেই স্থানীয় সরকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে। ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা চিহ্নিত করে সুশাসন সহায়ক পরিবেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে উন্নীত করা হবে। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদকে অধিকতর শক্তিশালী করা হবে যাতে এ সংস্থাগুলো উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ জনগণের জন্য পরিষেবা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

১২৯.    যেখানে সমস্যা সেখানেই সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। ‘স্থানীয় নেতৃত্বেই টেকসই সমাধান সম্ভব’ -এ নীতির ভিত্তিতে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ক্ষমতায়িত করা হবে। ক্ষমতা ও উন্নয়নের ভরকেন্দ্র হবে গ্রামমুখী।

১৩০.   জনগণের মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে বিধি অনুযায়ী শক্তিশালী করা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। 

১৩১.   স্থানীয় সরকারের অনুকূলে সরকারী বরাদ্দের অপ্রতুলতা এবং বৈষম্য নিরসনের জন্য জাতীয় বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ করা হবে। আইন দ্বারা গঠিত একটি স্বাধীন কমিশন সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত অর্থ বণ্টনের

১৩২. বর্তমানে রাজনৈতিক কারনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বিচারে সাসপেন্ড/বরখাস্ত/অপসারণ করা হচ্ছে যা অনৈতিক ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। আদালত কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশবলে সাসপেন্ড/বরখাস্ত/অপসারণ করা হবে না। ব্যবস্থা করবে।

 


কৃষি ও কৃষক

১৩৩.   তীব্র জন-ঘনত্ব এবং ক্রম সংকোচনশীল কৃষি জমি বিবেচনায় নিয়ে উদ্ভাবনমূলক কৃষি-কৌশল গ্রহণ করা হবে। সমতল, পাহাড় ও হাওড়-বাওর এলাকার জন্য বিশেষ বিশেষ ফসল চাষের উপেযোগিতা বিবেচনায় রেখে ক্রপ-জোনিং (crop- zoning) উৎসাহিত করা হবে। কৃষকদের উচ্চফলনশীল এবং উচ্চমূল্য-ফসল চাষে উৎসাহিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রয়াস টেকসই করার জন্য সঠিক বাজারজাতকরণ নীতি প্রণয়ন করা হবে। সেচের পানির প্রাপ্যতা এবং জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য খাল-খনন ও নদীশাসন কার্যক্রম জোরদার ও সম্প্রসারণ করা হবে।

১৩৪.   বিএনপি কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বাজার প্রক্রিয়াকে নানাভাবে প্রভাবিত করার ফলে কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। মূল্য-সমর্থন এবং উপকরণ ভর্তুকির সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে কৃষক যাতে তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় সে ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে ডাটা বেইস গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয় সমর্থন পাওয়ার যোগ্য কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

১৩৫.   উন্নত মানের বীজের দুষ্প্রাপ্যতা বাংলাদেশের কৃষকের একটি কঠিন সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানকল্পে প্রত্যেক উপজেলায় বীজ-বর্ধন (seed multiplication) ও প্রক্রিয়াকরণ খামার গড়ে তোলা হবে। এ থেকে কৃষি উৎপাদন ৮% থেকে ১০% বৃদ্ধি পাবে।

১৩৬.   ব্যস্ত মৌসুমে পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিকের অভাবে ঐ সময়ে কৃষি মজুরি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। কৃষি শ্রমিকের দুষ্প্রাপ্যতা মোকাবেলা করার জন্য লাগসই কৃষি-যন্ত্র উৎপাদনে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেয়া হবে। ব্যস্ততাহীন মৌসুমে উদ্বৃত্ত কৃষি শ্রমিকদের কাজে লাগানোর জন্য কৃষি বহির্ভূত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

১৩৭.   বাজার প্রক্রিয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। উৎপাদন থেকে বাজারজাত পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরকে সমন্বিত করে উর্ধমুখী (vertical) সমবায় পদ্ধতি গড়ে তুলে ফসলের দেখভাল, বাছাইকরণ, মজুতকরণ এবং পরিবহন সুবিধাসমূহ সরাসরি কৃষকের নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সমর্থন প্রদান করা হবে।

১৩৮.   আধুনিক কৃষি নিবিড় গবেষণা নির্ভর। নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল বীজ, লবণাক্ততা নিরোধক বীজ, কম-তৃষ্ণার্ত ফসল, ফসল পাকার সময় হ্রাস, পোকামাকড় নিরোধক ফসল, একই মৌসুমে একাধিক ফসলের চাষ অথবা একই ফসল একাধিক মৌসুমে উৎপাদন এবং উপকরণ-সাশ্রয়ী ফসল প্রভৃতি উদ্ভাবনে আধুনিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করা হবে। জিএমও (GMO) ফসল স¤পর্কে নিবিড় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পরিবেশ বান্ধব ও জাতীয় কল্যাণমুখী নীতি গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় বাজেটের একটি যৌক্তিক অংশ কৃষি গবেষণার জন্য বরাদ্দ করা হবে।

১৩৯.   বাংলাদেশে কৃষিতে অতি ক্ষুদ্র আকারের খামার কৃষির বাণিজ্যায়ণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরও প্রকট হবে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনার মাধ্যমে ক্ষুদ্রায়তন খামারের বাণিজ্যায়ণের সমস্যা অতিক্রম করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

১৪০.   কৃষি নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বীমা, পশু বীমা, মৎস্য বীমা এবং পোল্ট্রি বীমা চালু করা হবে।

১৪১.   গরীব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত কৃষকের কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করা হবে।

১৪২.   হাঁস-মুরগী ও মৎস্য খামারের জন্য নিরাপদ ‘ফিড’ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (regulatory mechanism) গড়ে তোলা হবে। বার্ড ফ্লু জাতীয় মড়ক থেকে হাঁস মুরগী রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। হাঁস মুরগীর পালক ও বিষ্ঠা পুনচক্রায়নের (recycling) জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হবে।

১৪৩.   হাঁস-মুরগী, মৎস্য, পশুসম্পদ, কৃষিজাত ফসল এবং বন-সম্পদ উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

১৪৪.   প্রতি উপজেলায় পর্যাপ্ত পশু-রোগ প্রতিষেধক ঔষধের যোগান নিশ্চিত করা এবং পশু-রোগ চিকিৎসক (Veterinary) নিয়োগ দেয়া হবে।

১৪৫.   ছাগল, গবাদি পশু এবং মহিষের খামার গড়ে তোলার জন্য ব্যক্তি খাতকে প্রণোদনা দেয়া হবে।

১৪৬.   কৃষি-পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পখাতকে (agro-processing) প্রণোদনা দেয়া হবে।

১৪৭.   কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার সাধ্যমত বন্ধ করা হবে। গ্রামাঞ্চলে গুচ্ছ-বসতির (clustered housing) মাধ্যমে কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার রোধ করা হবে।

১৪৮.   কৃষি উন্ন্য়নের প্রধান লক্ষ্য হবে খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা বিধান। সুষম ও নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি (ক্যালরি, আমিষ, ভিটামিন, মিনারেল্স, ফ্যাট প্রভৃতি) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথোপযুক্ত প্রণোদনার মাধ্যমে গোটা কৃষি খাতকে পুনর্বিন্যাস ও বিকশিত করা হবে। কৃষিতে অনিরাপদ ও ক্ষতিকর সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করা হবে।

১৪৯.   হাওর ও হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম ১৯৭৭ সনের ২২শে ফেব্রুয়ারী হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন। হাওর-অর্থনীতি এবং হাওর অঞ্চলের জনগন, তাদের জীবন-জীবিকা, ও পরিবেশ নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। পরিকল্পিতভাবে কম জীবনকাল ফসলের চাষ, ভাসমান শাকসবজি আবাদ (Aquatic agriculture), নিয়ন্ত্রিতভাবে সেচ ব্যবস্থাপনা, মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা, জেলেদের আকাল সময়ে সাবসিডি প্রদান, পুরো হাওরকে পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তোলার সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেয়া, পরিকল্পিতভাবে হাঁস চাষ সহ হাওরের জীব ও প্রাণীকুলের (Flora & fauna)সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কৌশল অবলম্বন এবং শুষ্ক মৌসুম ও ভেজা বর্ষায় হাওর অঞ্চলের অমিত সম্ভাবনাকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করা হবে।


শ্রমিক কল্যাণ

১৫০.   বিএনপি শ্রমিক শ্রেণীর ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দরকষাকষি করার গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করবে। বাজারমূল্য ও মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে সকল সেক্টরে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য প্রতি দুই বছর অন্তর রিভিউ ব্যবস্থা চালু করা হবে। যৌক্তিক শ্রমিক স্বাস্থ্য-সেবা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিখাতের দায়িত্ব স¤পর্কে আইন ও বিধি-বিধান প্রণয়ন করবে। এই আইন ও বিধি হবে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংগে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই ধরনের ব্যবস্থা থাকবে রাষ্ট্রীয় খাতের জন্য।

১৫১.   বিগত কয়েকবছরে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায় শত শত শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। শত শত শ্রমিক বিকলাঙ্গ হয়েছে। বিএনপি এ ধরনের ট্রাজিক দুর্ঘটনা থেকে শিল্প-খাতকে মুক্ত করতে চায়। এই লক্ষ্যে বিদ্যমান শিল্প-কারখানাগুলোর উপর প্রত্যক্ষ জরিপ চালিয়ে শিল্প-কারখানাগুলোতে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ড, বয়লার বিস্ফোরণ, কারখানা ভবন-ধ্বস সহ দুর্ঘটনার উৎসসমূহ চিহ্নিত করা হবে এবং সরকারী ও বেসরকারি সেক্টরে শিল্প-কারখানাগুলোকে দুর্ঘটনামুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নতুন কোন শিল্প-কারখানা যাতে দুর্ঘটনা কবলিত না হয় সে লক্ষ্যে কারখানার অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর কারিগরি মান নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

১৫২.   গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।


নগরায়ণ ও আবাসন

১৫৩.   দেশের দ্রুত বর্ধনশীল এবং নৈরাজ্যপূর্ণ নগরায়ণকে সুশৃঙ্খল এবং ডবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বিত করতে একটি জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে এবং সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যুগোপযোগী বাজার প্রণোদনা ও রাষ্ট্রীয় নজরদারির (regulatory mechanism) নীতি অনুসরণ করা হবে।

১৫৪.   প্রশাসনিক ও অথনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, জেলা ও উপজেলা শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মহানগরীগুলোতে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ হ্রাস করে নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা হবে।

১৫৫.   কৃষি জমি নষ্ট না করে পরিকল্পিত আবাসন যেমন- গুচ্ছ আবাসন (clustered), বহুতল আবাসন (vertical residence) গড়ে তোলা হবে। শিল্পায়ন ও নগরায়নে ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।

১৫৬.   বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টসহ নগর জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

১৫৭.   বাসস্থান প্রত্যেক নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। বিএনপি সীমিত আয়ের মানুষের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক বহুমুখী প্রকল্পের আওতায় সাশ্রয়ী মূল্যে পরিকল্পিত আবাসন সুবিধা প্রদানের প্রয়াস নিবে। অবৈধভাবে দখলকৃত ভুমি পুনরুদ্ধার করে তাতে বস্তিবাসী ও বাস্তু-ভিটাহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসিত করা হবে। এইভাবে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিত করা হবে।


নিরাপদ খাদ্য ও ঔষধ

১৫৮.   ভেজাল প্রতিরোধ, বিশেষ করে খাদ্যে ও ঔষধে ভেজাল রোধে আইনি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। একটি শক্তিশালী ও কার্যকর খাদ্য ও ঔষধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা

১৫৯.   ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’-এই হবে বিএনপির স্বাস্থ্য-নীতি। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার নিমিত্তে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (Universal Health Coverage) চালু করা হবে।

১৬০.   পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে।

১৬১.   বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে GP (General Practitioners) ব্যবস্থার প্রর্বতন করা হবে। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একজন চিকিৎসক নির্দিষ্ট থাকবেন। এতে Universal Health Coverage নিশ্চিত হবে। অপরদিকে ডাক্তারদেরও কর্মসংস্থান হবে। গরীব মানুষের জন্য ৫০ ধরনের প্রয়োজনীয় ঔষধ বিনামূল্যে দেয়া হবে। একটি কার্যকর রেফারেল সিষ্টেম গড়ে তোলা হবে।

১৬২.   ‘নিরাময়ের চেয়ে রোগ প্রতিরোধ শ্রেয়’ এই নীতির ভিত্তিতে বিএনপি সংক্রামক, অসংক্রামক ও নতুন উদ্ভুত রোগসমূহের বিস্তার প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

১৬৩.   জিডিপির ৫% অর্থ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হবে। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ করে জাতীয় স্বাস্থ্য উন্নয়ন এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি স্বাস্থ্যবান উন্নত জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠাই বিএনপি’র লক্ষ্য।

১৬৪.   উৎপাদনকারী, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতার যুক্তিসংগত মুনাফা নিশ্চিত করে ঔষধের মূল্য যুক্তিসংগত হারে হ্রাস করা হবে। দেশে ঔষধ, ঔষধের মূল উপকরণ ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে।

১৬৫.   রাজধানী শহরে প্রাপ্ত সকল চিকিৎসা সুবিধা ক্রমান্বয়ে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারিত করে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা দেশের মফস্বল পর্যায়েও সহজলভ্য করে তোলা হবে। উপজেলা পর্যায়ে সার্জারি সুবিধা সুলভ করার লক্ষ্যে এনেসথেসিষ্ট তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বেতন প্রণোদনার মাধ্যমে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পোষ্টিং দেয়া হবে।

১৬৬.   উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে আড়াই লক্ষ নতুন ডাক্তার এবং আনুপাতিক হারে নার্স ও টেকনিশিয়ানের প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাস্তব ও মানসম্মত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

১৬৭.   দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন হেল্থ সেন্টারে ল্যাব সুবিধাসহ অন্ততঃ দুইজন ডাক্তারের অবস্থান নিশ্চিত করে এ সেন্টারগুলোতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রত্যেক ডাক্তারকে কমপক্ষে দুইবছর আবশ্যিকভাবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা দিতে হবে। এই ডাক্তারদের মাধ্যমে কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

১৬৮.   প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে তাল রেখে চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিৎসকদের মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও দেশে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১৬৯.   জাতীয় স্বাস্থ্য সেবায় ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন এর সমন্বয় ও উন্নয়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতি গ্রহণ করা হবে।

১৭০.   বিশিষ্ট চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে চিকিৎসা শিক্ষার মান উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জাতীয় এক্রেডিটেশন কাউন্সিল (Accreditation Council) গঠন করা হবে।

১৭১.   সংক্রামক ব্যাধি রোধ, মাতৃস্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, শিশু-মৃত্যুর হার হ্রাস ও শিশুদের অপুষ্টি রোধকল্পে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

১৭২.   সর্বজনীন স্বাস্থ্যসম্মত সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

১৭৩.   মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং বয়োবৃদ্ধদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপকূলীয় এলাকা এবং চরাঞ্চলের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালু করা হবে। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের কষ্ট লাঘবের জন্য ‘HOSPICE-CARE’ স্থাপন করা হবে।

১৭৪.   জেলা-উপজেলা পর্যায়ে উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে বেসরকারী হাসপাতাল নির্মাণে উৎসাহ প্রদান করা হবে।

১৭৫.   সরকারী ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞসহ সমাজের সর্বস্তরের বিশিষ্ট নাগরিক সমন্বয়ে মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

১৭৬.   বিএনপি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পর্যায়ক্রমে শূন্য শতাংশে কমিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। পরিবার কল্যাণ কর্মসূচিকে সফল করার জন্য বস্তিবাসী, নিম্নবিত্ত ও শিক্ষার আলোক বঞ্চিতসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে পরিবার কল্যাণ কার্যক্রম কার্যকরভাবে সম্প্রসারিত করা হবে। 


যুব, নারী ও শিশু

১৭৭.   যুব, নারী ও শিশুদের জীবন বিকাশের চাহিদার নিরিখে যথোপযুক্ত উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হবে। জাতীয় উন্নয়নে যুব, নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

১৭৮.   সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে নারীর অবদানকে বিএনপি দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করে। দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বিএনপি সকল কর্মকা-ে নারী সমাজকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সকল বাধা অপসারণ করা হবে।

১৭৯.   নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচাররোধে কঠোর কার্যকর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিশু-শ্রম রোধে কার্যকর বাস্তবানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

১৮০.   শিশু সন্তান রেখে নারীরা যাতে নিশ্চিন্তে কাজে মনোনিবেশ করতে পারে সেই লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক Day Care Centre গড়ে তোলার জন্য সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

১৮১.   নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ গ্রহণের পথে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের অধিকতর উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নে প্রয়োজনীয় সমর্থন, স্বল্প-সুদে ব্যাংক ঋণ এবং কর-ছাড় দেয়া হবে। 

১৮২.   বিএনপি বেকার যুবশক্তিকে উৎপাদনশীল কর্মকান্ডে নিয়োগের জন্য দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের চাহিদার নিরিখে যুবসমাজকে যথাযথভাবে দক্ষ ও সক্ষম করে তুলবে।

১৮৩.   যুব উদ্যোক্তাদের বেশি বেশি করে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নে প্রয়োজনীয় সমর্থন, স্বল্প-সুদে ব্যাংক ঋণ এবং কর-ছাড় দেয়া হবে।

১৮৪.   এক বছর ব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে।


জলবায়ু পরিবর্তন

১৮৫.   জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানবজাতির অস্তিত্ব যেভাবে বিপন্ন হতে চলেছে, তার জন্য বাংলাদেশের মত দেশ দায়ী নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের দায়ভার শিল্পোন্নত বিশ্বকে নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শিল্পায়িত বিশ্বকেই এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে বিশ্বজনমত গঠন ও বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা নেবে।

১৮৬.   জলবায়ূ পরিবর্তনের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। জলবায়ূ পরিবর্তন মোকাবেলা করার জন্য টেকসই Mitigation এবং Adaptation কৌশল গ্রহন করা হবে, যেমন- কার্বন নিঃসরণ হ্রাস,খাল-বিল-নদী-নালা ও জলাভুমি পুনরুদ্ধার, পরিকল্পিত নগরায়ন ইত্যাদি। উপকূল এলাকাসহ সারাদেশে নিবিড় বনায়ন ও সুন্দরবনসহ অন্যান্য বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র রক্ষায় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


পানি সম্পদ, নীল অর্থনীতি (blue economy) ও পরিবেশ সংরক্ষণ

১৮৭.   সামাজিক ও পরিবেশগত কোন সমস্যা সৃষ্টি না করে সারা দেশে পানি সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উন্নততর পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। National Water Grid গড়ে তোলা হবে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৮৮.   শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট নিরসন কল্পে শহীদ জিয়ার খাল-খনন কর্মসূচী পুনরায় চালু করে শুকিয়ে যাওয়া বা পলিমাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়া খাল-বিল, নদী-নালা এবং হাজা-মজা পুকুর ও দীঘি পুনঃখনন করা হবে।

১৮৯.   জনসচেতনতার অভাবে নদী, খাল, বিল ও জলাধারের পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। কৃষি-কেমিক্যাল, শিল্প বর্জ্য ইত্যাদি জলাধারে ফেলা বন্ধে কঠোর রেগুলেটরি আইনের প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

১৯০.   সুপেয় পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি সংরক্ষণ এবং বিশুদ্ধকরনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৯১.   আমাদের ভূ-গর্ভস্থ পানি ও ভূ-উপরিস্থ পানির অনুপাত হচ্ছে ৭০:৩০। ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমান বাড়ানোর জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

১৯২.   দেশের নদী, হাওড়-বাওর ও জলাশয়/জলাধারগুলোর পানি সম্পদ সংরক্ষণে সমন্বিত নীতি ও নদী শাসনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। নদীবাহিত পলিমাটি সংরক্ষণের মাধ্যমে ভূমি পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীবাহিত বালির সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

১৯৩.   আমাদের নদীর সংখ্যা চার শতাধিক। এর মধ্যে ২৩০টি নদী মৃতপ্রায়। এ সব মৃতপ্রায় নদী খনন করে নৌ-চলাচলের উপযোগী করা হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে এ গুলো জলাধার হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, ধলেশ^রী, গড়াই, মধুমতি, করতোয়া ইত্যাদি খনন করে পানি সংরক্ষণ জলাধার সৃষ্টি করা হবে।

১৯৪.   ব-দ্বীপ ভূমি (delta) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ (conservation), উপকূলীয় সম্প্রসারণ (coastal expansion) নিশ্চিত এবং ভূমি পুনরুদ্ধার করার জন্য নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ অক্ষুন্ন রাখতে হবে। এই লক্ষ্যে বিএনপি প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রয়াস নিবে। উপকূলীয় এলাকায় গড়ে উঠা নতুন দ্বীপগুলোর সংরক্ষণ ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভূমি পুনরুদ্ধার ও ভূমি-বর্ধনে উপযুক্ত গবেষণা উন্নয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে উপযুক্ত নদী শাসন, গবেষণা-উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও প্রতিরোধী কাঠামো নির্মাণ করা হবে। উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ, সংস্কার, পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৯৫.   বাংলাদেশে আমরা পানির স্থান দখল করেছি, পানি তাই আমাদের স্থান দখল করে বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। দেশকে জলাবদ্ধতা (Water Logging) থেকে মুক্ত করার জন্য কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা হবে।

১৯৬.   হাওড় ও পাহাড়ি এলাকা এবং বন্যা প্রবণ এলাকাগুলোতে বন্যা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৯৭.   ঢাকা বসবাসের জন্য বিশ্বের দ্বিতীয় নিকৃষ্টতম নগরীতে পরিণত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার জনজীবনের স্বার্থে বুড়িগঙ্গা, বালু ও তুরাগসহ ঢাকার চারপাশের জলাভূমি দূষণমুক্ত করে এগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঢাকার পরিবেশ দূষণ হ্রাসের জন্য প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। এতে ভূ-পৃষ্ঠে পরিচ্ছন্ন পানি ও সুলভ নৌ-যোগাযোগ নিশ্চিত হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের সকল বিভাগীয় ও জেলা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও পরিবেশসম্মত করা হবে।

১৯৮.   আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে বহমান আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বিএনপি আঞ্চলিক ও পার¯পরিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগও গ্রহণ করা হবে।

১৯৯.   সমুদ্রের উদ্ভিদ ও প্রাণীস¤পদের মজুদ (blue economy) সম্পর্কে নিয়মিতভাবে বিজ্ঞানসম্মত জরিপ পরিচালনা করা হবে। জরিপে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্রের উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের (flora and fauna) টেকসই (sustainable) আহরণ, ব্যবহার ও বাজারজাত করা হবে।  


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

২০০.   কাক্সিক্ষত ডবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির চাহিদা পূরণের জন্য (২০৩০ সাল নাগাদ বিদ্যুতের আনুমানিক চাহিদা ৩৫ হাজার মেগাওয়াট বিবেচনায় নিয়ে) বিএনপি যথোপযুক্ত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এ লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত সকলপ্রকার জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

২০১.   দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দীর্ঘ মেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। নিম্নতমমূল্য বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা (Least Cost Generation Plan) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। বিভিন্ন ধরণের সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ এনার্জি-মিক্স নিশ্চিত করা হবে। জ্বালানির উৎস বহুমুখী করা হবে। সাশ্রয়ী ও যুক্তিসঙ্গত মূল্যে গুণগত মানস¤পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এনার্জি-এফিসিয়েন্ট বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। গৃহস্থালি, কলকারখানা, সরকারী ও বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারকারীদের জন্য এনার্জি-অডিটিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। জ্বালানি-দক্ষ সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন ব্যবহারে প্রণোদনা দেয়া হবে।

২০২.   অদক্ষ পুরানো বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ অতি জরুরী ভিত্তিতে আধুনিকায়ন এবং পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। দেশীয় গ্যাস এবং ফার্নেস-অয়েল এর উপর নির্ভলশীলতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা হবে। বিদ্যুৎ সংকট স্থায়ীভাবে নিরসন এবং কার্বন নিঃস্বরণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ছোট, মাঝারি ও বৃহদাকার পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানী আহরণ বিশেষ করে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জিও-থারমাল, সমুদ্র তরঙ্গ, বায়োগ্যাস, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির উৎস হিসেবে ভবিষ্যতে ক্রমান্বয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর উপর অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংগে মিল রেখে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

২০৩.   বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দামের সাথে সঙ্গতি রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হবে। সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি উৎস বহুমুখী করা হবে। উপযুক্ত স্থানে ৫০ লক্ষ টন ক্রুড অয়েল রিফাইন বা পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন নূতন রিফাইনকারী নির্মাণ করা হবে।

২০৪.   দেশের স্থলভাগ এবং বঙ্গোপসাগরে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র, তেল ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশকে পারস্য উপ-সাগরীয় দেশ সমূহ, ইরান ও মধ্য এশিয়ার দেশসমূহ এবং পাকিস্তান ও ভারতের আন্তঃদেশীয় গ্যাস পাইপ লাইনে সংযুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

২০৫.   আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আঞ্চলিক পানি-ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে স্বল্প খরচে পানি-বিদ্যুৎ উৎপাদন, আন্ত:দেশীয় বিতরণ সিষ্টেম উন্নয়ন ও আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

২০৬.   অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে যে সীমাহীন দুর্নীতি করা হয়েছে এবং অনৈতিক দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ এর মুল্য বার বার বৃদ্ধি পেয়ে জনগণ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। বিএনপি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করবে। Electricity and Energy Rapid Supply Increase Act. 2010 পুন:পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

২০৭.   জ্বালানি ঘাটতি পূরনের লক্ষ্যে দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত জ্বালানিমূল্যের ভারসাম্যমূলক সমন্বয়ের ভিত্তিতে শিল্প কারখানা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সুলভ ও সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি (বিদ্যুৎ, এলএনজি, এলপিজি ইত্যাদি) সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। 

২০৮.   সমুদ্রের নিঃশেষযোগ্য সম্পদ (depletable resource) যেমন- গ্যাস, তেল ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করা হবে। জরিপের ভিত্তিতে এসব স¤পদ উত্তোলন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণে নির্ভরযোগ্য নীতি-কৌশল প্রণয়ন করা হবে।  

২০৯.   জ্বালানি উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এই আলোকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি পুনঃপরীক্ষা করা হবে।



শিল্প

২১০.   শিল্প খাতের বিকাশে বিনিয়োগ বান্ধব নীতি প্রণয়ন করে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। শিল্পায়নের তিনটি মৌলিক উপাদান- প্রণোদনা (Incentive), অবকাঠামো (Infrastructure) এবং (Institution) সংক্ষেপে “থ্রি আই” এর ভিত্তিতে দেশব্যাপী সমন্বিত শিল্প-অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। যৌক্তিক নীতি-কৌশল গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো হবে। বিশ্বে যেসব দেশ তাদের শিল্প-কারখানাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে চায় (Relocate) সেগুলো যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়া হবে।

২১১.   বাংলাদেশে ভূমি স্বল্পতার বিষয়টি বিবেচনা করে কম ভূমি ব্যবহারকারী শিল্প, বিশেষ করে সেবা-শিল্প গড়ে তোলার কৌশল গ্রহণ করা হবে। 

২১২.   পোষাক শিল্পে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা ও বিস্তৃত করার পাশাপাশি শিল্প খাতের বহুমুখীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশকে টেকসই শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করা হবে।

২১৩.   বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিল্প পার্ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে। সব ধরনের সম্ভাবনাময় শিল্প স্থাপনে বেসরকারি খাতকে সহায়তা দেয়া হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং শ্রমঘন শিল্পকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে।

২১৪.   বাংলাদেশ একদিকে যেমন রপ্তানি বাজারের জন্য শিল্প-পণ্য উৎপাদন করবে, অন্যদিকে দেশীয় চাহিদার নিরিখে বিদেশী পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম বিভিন্ন ধরণের শিল্প কারখানা স্থাপনের ব্যক্তি উদ্যোগকে প্রণোদিত করা হবে।

২১৫.   ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

২১৬.   দেশে সূক্ষ্ম-মান শিল্প (precision industry) গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

২১৭.   ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প বিকাশে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। ভেঞ্চার ক্যাপিটেল এর প্রাপ্যত্য সহজলভ্য করা হবে। মাঝারি উদ্যোক্তাদের শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করার জন্য একটি ÒStart-up Fund"" এর আওতা প্রসারিত করে কারিগরি পরামর্শ, স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানসহ নানাবিধ প্রণোদনা দেয়া হবে।


যোগাযোগ (সড়ক, রেল ও নৌ-পথ)

২১৮.   দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে রেল ও নৌ-পথের উপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করা হবে। সড়ক রেল ও নৌপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের মাধ্যমে সারাদেশে সমন্বিত বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

২১৯.   চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকায় বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করে একে একটি Regional Hub হিসেবে গড়ে তোলা হবে। গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করে রাজধানী ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে সুপার হাইওয়ে দ্বারা সংযোগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

২২০.   চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও সহজসাধ্য করা হবে। 

২২১.   একসময় এদেশে চব্বিশ হাজার (২৪০০০) কিলোমিটার নৌ-চলাচলের উপযোগী জলপথ ছিল। কিন্তু এতদিনে অধিকাংশ নদী ভরাট হয়ে যাওয়া বা শুকিয়ে যাওয়ায় সম্প্রতি নদীপথ এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৬০০ কিঃ মিঃ। নদীমাতৃক বাংলাদেশে এ এক ভয়াবহ চিত্র। একটি মহা প্রকল্পের আওতায় নদী খননের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া নির্বাচিত নদীপথগুলো পুনরুদ্ধার এবং এর বহুমুখী ব্যবহার (ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির উৎস, মৎস্য চাষ, সার্ফেস-ওয়াটার (surface-water) প্রবাহ বৃদ্ধি, ভূ-গর্ভস্থ পানির রিচার্জিং ইত্যাদি) নিশ্চিত করা হবে।

২২২.   কর্ণফুলী, বুড়িগঙ্গা, গোমতী, পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা নদীতে আন্ডারগ্রাউন্ড-টানেল নির্মাণ করা হবে।

২২৩.   নৌ-পথে যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ করার জন্য ব্যক্তিখাতে নিরাপদ জাহাজের সংখ্যা এবং বুড়িগঙ্গাসহ অন্যান্য স্থানে ঘাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। ঢাকা-চাঁদপুর ও ঢাকা-বরিশাল রুটে অধিকতর দ্রুতগ্রামী যাত্রীবাহী নৌ-যান প্রবর্তন করা হবে।

২২৪.   দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট বন্দর ও ঘাটসমূহের যাত্রী ও মালামাল উঠানামার সুবিধার্থে পন্টুন স্থাপনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নৌ অবকাঠামো নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২২৫.   গত বিএনপি সরকারের সময়ে ঢাকার পানগাঁয়ে নির্মিত কন্টেইনার টার্মিনালের মত ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের নিকটস্থ এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।

২২৬.   উপকুলীয় এলাকায় বিভিন্ন দ্বীপ সমূহের সাথে মূলভূখন্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ ও সুগম করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপকূলীয় জাহাজ চালু করা হবে।

২২৭.   ঢাকা-লাকসাম কর্ডলাইন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও ঢাকা-বরিশাল রেল লাইন নির্মাণ এবং ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে দ্রুতগামী ট্রেন চালুর মাধ্যমে সারাদেশকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এইভাবে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রত্যেক জেলাকে রেল-নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে।

২২৮.   এশিয়ান হাইওয়ে এবং ঢাকা-কুনমিং রেল ও সড়ক যোগাযোগসহ আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

২২৯.   ঢাকা চট্টগ্রামসহ মহানগরী সমূহের যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস ও দ্রুত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৩০.   সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নকল্পে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে দ্বিতীয় পদ্মাসেতু ও ব্রহ্মপুত্র সেতু নির্মাণ করা হবে। বুড়িগঙ্গা, মেঘনা, গোমতী ও কর্ণফুলী নদীর উপর আরও সেতু নির্মাণ করা হবে। বিভিন্ন ছোট বড় নদীর উপর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেতু নির্মাণ করা হবে।

২৩১.   ঢাকার সাথে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের দ্রুত যোগাযোগের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস হাইওয়ে নির্মাণ করা হবে। সারাদেশে বিভিন্ন মহাসড়ক পর্যায়ক্রমে চার লেনে উন্নীত করা হবে। সারাদেশে সড়ক নেটওয়ার্ক তথা জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক, উপজেলা সংযোগ সড়ক ও স্থানীয় সড়কসমুহের যথাযথ উন্নয়ন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

২৩২.   সার্কভুক্ত ও আশিয়ান দেশসমূহের সাথে রেল ও সড়ক যোগাযোগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গণচীনের ‘ওয়ান বেল্ট- ওয়ান রোড’ উদ্যোগে সংযুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।


পর্যটন

২৩৩.   ‘সকল দেশের রানী’ বাংলাদেশ এখনও বিশ্বে একটি পর্যটক-প্রিয় দেশ হয়ে উঠতে পারেনি। পর্যটন শিল্পকে জনপ্রিয়করণ, এর প্রসার ও বিকাশ এবং বাংলাদেশকে পর্যটন-বান্ধব দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ করা হবে। বাংলাদেশের প্রবেশ-পথগুলোকে অধিকতর পরিচ্ছন্ন, ঝামেলামুক্ত এবং সেবামুখী প্রবেশ-পথ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বড় বড় শহর নগরগুলোর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে সামগ্রীকভাবে বাংলাদেশের মুখচ্ছবিকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সকল প্রকার পদক্ষেপ নেয়া হবে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল ও ভুমি-স্বল্প দেশ হওয়ায় পর্যটন শিল্প বিস্তারে সৃজনশীল কৌশল অনুসরণ করা হবে।

২৩৪.   পর্যটন শিল্পের প্রধান মূলধন প্রকৃতি ও সংস্কৃতি সঠিকভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে টেকসই পর্যটন উন্নয়ন বিশেষভাবে ইকো-ট্যুরিজম বিকাশের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের গ্রামে মডেল সুযোগ সুবিধা গড়ে তুলে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব। গ্রামের চিরায়ত সংস্কৃতি যেমন জারিগান, সারিগান, গম্ভিরা, যাত্রা-পালা, লাঠি-খেলাসহ গ্রামীণ খেলাধুলা, গ্রামীণ ঢাক-ঢোল, চারু ও কারুকলা, গ্রামের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রকৃতি, নদী-নালা, নৌকা-ভ্রমন, নৌকাবাইচ প্রভৃতি দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। বাংলাদেশের প্রতি জেলায় ন্যূনতম একটি গ্রামকে বেছে নিয়ে রাত-যাপনের সুবিধাসহ গ্রাম-পর্যটন গড়ে তোলা হবে। গ্রাম-পর্যটনের অনন্য আকর্ষণ হবে গ্রামীণ পিঠা-পুলি এবং ফলদ বৃক্ষ থেকে সদ্য পাড়া ফল-ফলাদি। এজন্য সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হবে।

২৩৫.   বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœ-নিদর্শনসম্পন্ন এলাকাগুলো পর্যটকদের আকর্ষণের স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া কক্সবাজার, কুয়াকাটা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন, সুন্দরবন, সিলেট, গারো পাহাড় এবং কিছু নদী তীরবর্তী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা বিশেষ পর্যটন-স্পট হিসেবে উন্নত করা হবে।

২৩৬.   দেশের বিভিন্ন উপযুক্ত স্থানে ‘এথ্নিক ট্যুরিজম’ এবং ‘ওয়াটার ট্যুরিজম’ চালু করা হবে।     

২৩৭.   পর্যটন শিল্পের সমন্বিত ও পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য পর্যটন-বান্ধব আইন প্রণয়ন করা হবে, বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী আরও সহজিকরণ করা হবে। দেশী বিদেশী পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ ও আবাস নিশ্চিত করা হবে। বিদেশী পর্যটকদের সুবিধার্থে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দোভাষী ও পর্যটক-গাইড সেবা নিশ্চিত করা হবে। 

২৩৮.   দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পকে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দেশের পর্যটন ¯পটসমূহে আধুনিক পর্যটন সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের আত্মকর্মসংস্থান এবং স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের পর্যটন খাতে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা এবং কর অবকাশসহ বিবিধ উদ্দীপনামূলক সুবিধা প্রদান করা হবে। 

২৩৯.   পর্যটকদের জন্য পুরনো ঢাকাকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রাচীন দালান কোঠা সংরক্ষণ ও সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং পানীয় স্বাস্থ্যসম্মত ও দৃষ্টিনন্দনভাবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশনের উদ্যোগ গ্রহণে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হবে। 

২৪০.   পর্যটন শিল্প বিকাশে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকারী ও বেসরকারি খাতে পর্যটন পুরস্কার চালু করা হবে।

২৪১.   পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমনে উৎসাহিত করার জন্য বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহ উদ্যোগী ভূমিকা নেবে এবং প্রয়োজনীয় প্রচারণা নিশ্চিত করবে।


সম্পদ সংরক্ষণ

২৪২.   বাংলাদেশে যে পুঁজি ও বস্তুগত সম্পদ গড়ে তোলা হয় এবং যে নবায়নযোগ্য সম্পদ ব্যবহৃত হয়ে যায়, কদাচিৎ সেগুলো সংরক্ষণ ও পুনর্ভরণ করা হয়। সংরক্ষণহীনতার এ সংস্কৃতি আমাদের অর্থনীতির ক্ষয় সাধন করছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যবহারের জন্য সম্পদ-প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে। সংরক্ষণহীনতার ফলে সম্পদ থেকে যে ভবিষ্যৎ উপযোগ আসার কথা তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর আয়ু হ্রাস পায়। বিএনপি বনগুলোকে পুনর্জীবিত করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালাবে। শুকিয়ে যাওয়া নদী-খাল, হাওড় ও বিল অঞ্চল, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (ox-bow lake), প্রাকৃতিক নিম্নভূমি -এগুলো জলাধার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও বিএনপি বর্ষাকালের উদ্বৃত্ত পানি শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য খাল খনন ও জলাধার নির্মাণ করবে, পানির পুনঃর্চক্রায়ন নিশ্চিত করবে এবং পানির গুণগত মান রক্ষা করবে। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করবে।

২৪৩.   সমুদ্র সম্পদের (blue economy) উপর একটি বিস্তারিত এবং নিবিড় জরিপ/সমীক্ষা চালানো হবে এবং এগুলোর পরিমিত উত্তোলন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। বৈরী শক্তির লুণ্ঠন থেকে সমুদ্র-সম্পদ রক্ষা করা হবে।

২৪৪.   বাংলাদেশে নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত অনেক স্থান রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এ স্থানগুলো বেআইনি দখলের শিকার হয়েছে। সরকার এ স্থানগুলোকে চিহ্নিত ও উদ্ধার করে পর্যটকদের উপভোগের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন সাধন করবে।

২৪৫.   যে সব নদী দূষণের শিকার হয়েছে এবং মনুষ্য হস্তক্ষেপ ও লোভের কারণে বেদখল হয়ে গেছে সেগুলোকে পুরাতন অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। দূষণ ও দখলের শিকার নদীগুলোকে পুনর্জীবিত করতে পারলে জলজ প্রাণী, সেচ এবং নৌ পরিবহন উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখবে। চর এলাকাগুলোকে গবাদি পশুর চারণভূমিতে পরিণত করে পুষ্টিমানসম্পন্ন দুধ ও মাংসের সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে।

২৪৬.   বার বার রাস্তা খোড়াখুড়ি এবং রোড ডিভাইডার ভাঙ্গার ফলে যে জনদুর্ভোগ ও স¤পদের ক্ষতি হয়, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিএনপি সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।


সামাজিক ব্যাধির সমস্যা

২৪৭.   নেশার মরণ ছোবল থেকে কিশোর ও যুব সমাজকে মুক্ত করার জন্য ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে। মাদক আমদানি, উৎপাদন এবং বাংলাদেশে এসবের বেআইনি প্রবেশ রোধে কঠোর বিধি-নিষেধ প্রয়োগ করা হবে। হতাশা এবং অন্যান্য মনস্তাত্বিক সমস্যার কারণে মাদকাসক্তরা বিপথগামী হয়। এদের পুনর্বাসনের জন্য মানসিক চিকিৎসা সমর্থন দেয়া হবে। বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল সাইকোলোজিষ্ট, মনোবৈকল্য বিশেষজ্ঞ এবং সাইকোথেরাপিষ্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজগুলোকে মনোবৈকল্য চিকিৎসক সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ভূমিকম্প

২৪৮.   বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং জ্বলোচ্ছাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বেশ কিছু সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে আরও অনেক কিছু করার আছে। আর একটি নতুন সম্ভাব্য দুর্যোগ হল ভূমিক¤প। ভূমিকম্পের মত দুর্যোগ মোকাবেলায় পূর্বপ্রস্তুতি বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। বিএনপি মনে করে ভূমিকম্প বাংলাদেশের মানুষ, প্রাণীকূল এবং উন্নয়নের জন্য ভয়াবহ হুমকি। সম্ভাব্য এ দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য বিদ্যমান সরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে সহযোগিতা করার জন্য প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলা হবে। ভূমিক¤প-উত্তর পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। কার্যকর উদ্ধার তৎপরতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধুনিক ও ভারী যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে। ভূমিকম্প-উত্তর সময়ের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হবে এবং রোগ নিরাময় ও জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্য-সেবা যথাযথভাবে গড়ে তোলা হবে। ভূমিকম্পজনিত-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় একটি সর্বাত্মক ও পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অনগ্রসর অঞ্চল

২৪৯.   পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর জীবন, সম্পদ, সম্ভ্রম ও মর্যাদা সুরক্ষা করা হবে।

২৫০.   অনগ্রসর পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর চাকুরী ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল সুবিধা এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

২৫১.   পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর ভাষা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় এবং সুষম উন্নয়নে বর্ধিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতি-গোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হবে।

২৫২.   চা-বাগানে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ ও মানবাধিকার লংঘন বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৫৩.   বস্তি, চরাঞ্চল, হাওর-বাওর এবং মঙ্গাপীড়িত ও উপকূলীয় অঞ্চলের অনগ্রসর জনমানুষের জীবন-মান উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়শীঘ্রই আসছে্

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

২৫৪.   দল-মত ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল জাতি গোষ্ঠির সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মকর্মের অধিকার এবং জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হবে।

২৫৫.   প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ন অধিকার ভোগ করবেন। কাউকে কোন নাগরিকের ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত করতে দেয়া হবে না। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।

২৫৬.   সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের সকল অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।


দেশ ও দেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে প্রণীত এই ভিশন বাস্তবায়নে পরম করুণাময় আল্লাহ্ আমাদের সহায় হোন।

আমরা যে ভিশন উপস্থাপন করলাম তা অর্জন কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। আমরা লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি। এই দেশটাকে উন্নত ও মর্যাদাবান দেশে পরিণত করা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা আশা করি, এই ভিশন বাস্তবায়নে আমরা দেশবাসীর সক্রিয় সমর্থনের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহেরও সহযোগিতা পাবো। 


দেশের স্বাধীনতা অর্জন গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমাদের আপোষহীন ও সংগ্রামী ভূমিকা বিবেচনা করে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক এই ভিশন বাস্তবায়নে আমাদের সক্রিয় সমর্থন জানাবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।


দেশ ও দেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে প্রণীত এই ভিশন বাস্তবায়নে পরম করুণাময় আল্লাহ্ আমাদের সহায় হোন।






তফসিল-১

ফরম ‘ক’

No comments:

Post a Comment

Adbox