LightBlog

Thursday, June 15, 2023

শেখ হাসিনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

 









মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ এ জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ‘আমার মুজিব’ নামের একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

জাতির পিতার জীবন ও কর্ম আপামর জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে মার্চ ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ইউনেস্কোর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘মুজিবর্ষ’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন অমিত সাহসী এবং মানবদরদী। ছিলেন রাজনীতি ও অধিকার সচেতন। প্রখর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এই বিশ্বনেতার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা; ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অশিক্ষার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে উন্নত জীবন নিশ্চিত করা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীনতার পর তিনি মাত্র সাড়ে ৩ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন। একটি প্রদেশকে পূর্ণাঙ্গ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার মতো চ্যালেঞ্জিং কাজটি বঙ্গবন্ধু সফলতার সঙ্গে করে যাচ্ছিলেন। দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ১ কোটি শরণার্থীকে পুনর্বাসন, মাত্র ৩ মাসের মধ্যে ভারতীয় সৈন্যকে সেদেশে ফেরত পাঠানো, ১০ মাসের মধ্যে দেশকে একটি বিশ্বসেরা সংবিধান প্রদানসহ আরও অনেক সাফল্য তিনি অর্জন করেন। জাতির পিতার সুযোগ্য নেতৃত্বে ১৯৭৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ অতিক্রম করে। মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে তিনি ‘স্বল্পোন্নত’ দেশের কাতারে নিয়ে যান। সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধু যখন একটি শোষণ-বঞ্চনামুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতাকে পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করে।

 গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধুর কেটেছে অন্তত ৩০৫৩ দিন। বলা যায় কারগার ছিল তাঁর দ্বিতীয় আবাসস্থল। তিনি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে সুসংহত করে গড়ে তুলতে ১৯৫৭ সালে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করেছে। বিশ্ব শান্তিতে অনবদ্য অবদান রাখার জাতির পিতা ১৯৭৩ সালে ‘জুলিও কুরি’ পদকে ভূষিত হন।

 ‘আমার মুজিব’ গ্রন্থে সারা দেশের ষষ্ঠ থেকে স্নাতকোত্তর শ্রেণি পয©ন্ত শিক্ষার্থীরা শত শব্দে কোন লেখা বা ছবির মাধ্যমে জাতির পিতা সম্পর্কে তাদের নিজস্ব অনুভূতি প্রকাশ করেছে। ফলে এ প্রজন্মের বাঙালিদের বঙ্গবন্ধু-ভাবনা সম্পর্কে আমরা জানতে পারলাম। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান কৃতিত্ব এভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে।









আমার মুজিব





বঙ্গবন্ধু তাঁর অধিকার ভরা দরাজ গলায় হৃদয়ের গভীর থেকে স্বত:স্ফূর্তভাবে উৎসারিত “আমার দেশ”, “আমার বাঙালি”, “আমার মানুষ” শব্দবন্ধগুলো ব্যবহার করে বাংলার মাটি ও মানুষকে যে ভাবে আপন করে নিয়েছিলেন, ঠিক তেমন করে আর কেউ নিজের দেশ ও মানুষকে আপন করে নিতে পেরেছে কিনা আমি জানি না। বলা যায়, তাঁর ভালবাসার প্লাবনে পঞ্চাশ, ষাট ও সত্তর দশকের বাঙালিরা প্লাবিত হয়েছে বার বার। অবশ্য প্রতিদানে বাঙালিও কম দেয়নি তাঁকে। তাঁর যাদুকরী সেই অঙ্গুলি হেলনে মুহুর্মুহ গর্জে উঠেছে তারা কিংবা সেই একই আঙ্গুলের ইশারায় নীরবে অপেক্ষা করেছে পরবর্তী নির্দেশের প্রত্যাশায়। ভালবাসা যেমন দিয়েছেন, ভালবাসা আদায়ও করেছেন আপামর মানুষের অকুণ্ঠ ভালবাসায় বারংবার সিক্ত হয়েছেন তিনি।

কিন্তু সেটা তো সেই পঞ্চাশ, ষাট ও সত্তর দশকের পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলা কিংবা সদ্যোজাত বাংলাদেশের কথা। তাঁর শাহাদাত বরণের ৪৫ বছর পর আজ এই বাংলাদেশে তাঁর অবস্থান কোথায়? রাষ্ট্রনীতি বা রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি তো দৃশ্যমান। কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তিনি কতটা জুড়ে আছেন! বাংলাদেশের মাটির ছোপ লাগানো সফেদ পাঞ্জাবি পরা তাঁর দীর্ঘ দেহটা তো আর বাংলার আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ায় না। অফুরন্ত রবীন্দ্রসঙ্গীত যার তাল লয় সুরে বাংলার চিরন্তন প্রকৃতি বেজে ওঠে তাঁকে তো আর মোহিত বা মগ্ন করতে পারে না। দিঘির টলোমলো শাপলা কিংবা শ্রাবণের ভরা নদী তাঁকে তো আর বাংলার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় না। তাঁর প্রিয় মাটির সোঁদা গন্ধ, ধানক্ষেতের স্নিগ্ধ রঙ, কিংবা নীলাকাশ-প্লাবিত কিরণে বারংবার স্নাত হওয়ার জন্য তিনি তো আর আকুল হয়ে ওঠেন না। চোখে সজল ব্যাকুলতা নিয়ে তিনি তো আর তাঁর দুঃখী মানুষের খোঁজ নিতে পারেন না। তাঁর কৃষক, তাঁর শ্রমিক, তাঁর রাখাল, তাঁর মাঝি, তাঁর যুবা, তাঁর কিশোর, তাঁর শিশু— সারা বাংলা জুড়ে পরম ভরসা ও প্রত্যাশা নিয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকা কোটি কোটি মা-ভাই-বোনদের কুশল তো আর জানা হয় না তাঁর।

কিন্তু তাঁর হাতে গড়া বাংলাদেশ, তাঁর সেই প্রিয় মাতৃভূমি, সেই বাঙালি জাতি, রবীন্দ্রনাথের ভাষায় তিনি যাদেরকে ‘মানুষ’ করে তুলেছিলেন, তারা তো এখনো আছে। তাঁরই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাঁরই স্বপ্নভূমি “সোনার বাংলা” গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার এই বাংলায় আমাদের প্রশ্ন ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালবাসার সেই প্রবল স্রোত কতটা প্রবাহিত হয়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। তাঁর সেই নিখাদ ভালবাসার প্রতিদান যে বাঙালি দিয়েছিল নিজেদের উজাড় করে, তাঁরই দেওয়া সাহসে ভর করে নিঃশঙ্ক চিত্তে বন্দুকের নল উপেক্ষা করে যারা দাঁড়িয়ে গিয়েছিল মাথা উঁচু করে, তাঁরই করকমলে রক্ত দিয়ে ছিনিয়ে আনা স্বাধীনতা উপহার দিতে পেরে যারা নিজেদের ধন্য মনে করেছিল, সেই বাঙালি কি এখনও সেভাবে মনে রেখেছে তাঁকে? এতদিন পরে এসে সেই প্রবল ভালবাসা কি এখনও অনুভূত হয়? সাতই মার্চের সেই অমর কবিতার ছন্দে এখনও কি নেচে ওঠে তরুণ হৃদয়? এখনও কি সেই সৌম্য শান্ত দীর্ঘ দেহাবয়বটি আরও উঁচু হয়ে দাঁড়াবার সাহস যোগায়? যে আদর্শে তিনি বাঙালি জাতিকে “মানুষ” করতে চেয়েছিলেন সেই আদর্শ কি এখনও পথ দেখায়?

অর্থাৎ আমরা জানতে চেয়েছিলাম এই প্রজন্মের বাঙালিরা কি চোখে দেখে বঙ্গবন্ধুকে। এই মহান মানুষটির কাছ থেকে কীভাবে কতটা মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়। অসামান্য এই দেশপ্রেমিকের কথা শুনে-পড়ে-দেখে কতটা দেশপ্রেম জাগ্রত হয় তাদের। সর্বোপরি আমরা দেখতে চেয়েছিলাম কীভাবে কতটা ভালবাসে তারা তাদের জাতির পিতাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ লক্ষ্যে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আহবান করেছিলাম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শত শব্দে কোনো লেখা কিংবা এক টুকরো কাগজের ওপর আঁকা কোনো ছবি। তাঁর মতো বিশাল মানুষের প্রতি আবেগ প্রকাশের জন্য এই পরিসরটি যে খুবই ছোট তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জটি শিক্ষার্থীরা খুব ভাল ভাবেই নিয়েছে। সারাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ লেখা ও ছবি পেয়েছি আমরা। এই অভূতপূর্ব সাড়া পেয়ে আমরা আনন্দে আপ্লুত।

আমরা শুধু এই কারণে আপ্লুত নই যে দেশব্যাপী লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে। আমরা আপ্লুত এই কারণে যে, যে আবেগ এবং অনুভূতি তারা প্রকাশ করেছে তাতে কোন খাদ নেই; কোন বাড়তি শব্দ বা মেকি রঙ চড়ায়নি তারা। আপ্লুত এই কারণে যে আমাদের কিংবা আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম যেভাবে তাঁকে ভালবেসেছি, বিশ্বাস করেছি, ভরসা করেছি; আনন্দ-বেদনা কিংবা সুখ-দুঃখে তাঁকে স্মরণ করেছি, তাঁকে ধ্রুবতারার মত জ্ঞান করে পথ খোঁজার চেষ্টা করেছি, এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও তাই। আপ্লুত এই কারণে বঙ্গবন্ধু যেমন “আমার দেশ”, “আমার বাঙ্গালি”, “আমার মানুষ” বলে নিজের দেশ ও দেশের মানুষকে আপন করে নিয়েছিলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরাও তেমনি “আমার মুজিব” এর মধ্য দিয়ে তাঁকে আরও আপন করে নিয়েছে। আপ্লুত এই কারণে যে, এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও তাঁর “সোনার বাংলার” স্বপ্ন দেখে এবং তাঁর মত করেই সেই “সোনার বাংলা” গড়তে চায়। আপ্লুত এই কারণে যে, তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা রাখে এবং বিশ্বাস করে শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথ ধরে এগোলেই সত্যিকার অর্থে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। আপ্লুত এই কারণে এই বইটি পড়ার পর আমরাও কবি শামসুর রাহমানের মতো আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি, “তোমার বুক ফুঁড়ে অহংকারের মতো ফুটে আছে রক্তজবা”।

লক্ষ লক্ষ লেখা থেকে নির্বাচিত শত শব্দের শত লেখা কিংবা পঁচিশটি ছবি নিয়ে ছাপানো এই বই পড়ে বা দেখে নতুন প্রজন্ম নিয়ে কোন চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে কি-না জানি না তবে এটা নিশ্চিত বোঝা যায় এই প্রজন্মের সন্তানরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে, অনুপ্রেরণায় এবং পরোক্ষ ভালবাসায় বড় হয়ে উঠছে। এদের লেখা ও ছবি দেখে আরও প্রতীতি নিয়ে অনুভব করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সত্যিই একজন “ধন্য পুরুষ”। আমাদের প্রধান কবির কল্পনাকে আর কল্পনা মনে হয় না; এখন একেবারে প্রমাণসহ বলতে পারি তাঁর নামের ওপর চিরকালই রৌদ্র ঝরবে, শ্রাবণের বৃষ্টিধারা নেমে আসবে গান হয়ে, কখনো ধুলো জমতে দেবে না বাংলার হাওয়া, জ্যোৎস্নার সারস মেলে দেবে তাঁর মমতাময় পাখা এবং পতাকার মতো দুলতে থাকবে তাঁরই দেওয়া আমাদের সাধের স্বাধীনতা।

পরিশেষে, মুজিব বর্ষে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে “আমার মুজিব” নামের এই বিশাল কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে তা প্রকাশ করার জন্য আমি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই সংশ্লিষ্ট সকলকে। করোনা আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখার জন্য নানাবিধ ফলপ্রসু উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি গৃহবন্দী শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা সচল রেখে বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য “আমার মুজিব” মাউশি অদিদপ্তরের একটি উল্লেখযোগ্য সফল প্রয়াস। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।









No comments:

Post a Comment

Adbox